
হবিগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু—দুটিই বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৮ জন। শনাক্ত ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ, যা এযাবৎকালের মধ্যে জেলায় সর্বোচ্চ।
এদিকে গত দেড় বছরেও হবিগঞ্জে করোনা রোগীদের জন্য কোনো হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হয়নি। হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যার একটি ইউনিট থাকলেও সেখানে আইসিইউ এবং হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা নেই। এ ছাড়া দুই-তিন ধরে চলছে অক্সিজেনের সংকট।
হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় রোববার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৪০ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে আক্রান্ত বা চিকিৎসাধীন ২ হাজার ৩৪০ জন। তাঁদের মধ্যে রোববারের চারজনসহ মোট মারা গেছেন ৩৩ জন।
হবিগঞ্জ হাসপাতালে রোববার পর্যন্ত ভর্তি আছেন মাত্র ২৬ জন। আক্রান্ত অন্যরা নিজেদের মতো করে বাড়িঘরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অবশ্য করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ৫০ শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় ৫টি করে আরও ৩৫টি শয্যা রাখা হয়েছে।
তবে এ হাসপাতালগুলোতে কোনো আইসিইউ এবং হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা নেই। দুই-তিন ধরে অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে হাসপাতালে করোনা ভর্তি রোগীর সংখ্যা কম। তা ছাড়া করোনায় আক্রান্ত বা শ্বাসকষ্টের রোগী এলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সিলেট কিংবা ঢাকায়।
এদিকে হঠাৎ করে এ জেলায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৮ জন। ৭৯২ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ।
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার জানান, তাঁদের হাসপাতালে আইসিইউ এবং হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে তাঁদের পক্ষে করোনায় শ্বাসকষ্টের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই রোগীদের সিলেট কিংবা ঢাকায় প্রেরণ করতে হচ্ছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট আজকের (রোববার) মধ্যে নিরসন হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।