
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের আঙিনা সাজানো হয়েছে নানা রঙের বেলুনে। মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে, কোন শিক্ষার্থীরা কোন কক্ষে যাবে। ঘোষণা থেমে গেলে মাইকে উচ্চস্বরে বাজছে দেশের গান। দেখে মনে হলো, স্কুলে যেন উৎসব! করোনাভাইরাসের কারণে ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর স্কুল খোলা ঘিরে এ উৎসব। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রিয় শিক্ষক আর সহপাঠীদের সামনাসামনি দেখতে পেয়ে খুশি।
আজ রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। স্কুলের মাঠে ও কক্ষের সামনে ছোট ছোট জটলা। ওই সব জটলায় থাকা শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক ছিল। তবে কেউ কেউ অসতর্ক হয়ে মাস্ক নাক-মুখ থেকে নামিয়ে থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছিল।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা মরিয়ম বলে, ‘দেড় বছর পর স্কুলে আসার যে কী আনন্দ, তা বলে বোঝানো যাবে না। স্কুল খোলার ঘোষণার পর থেকেই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম।’
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রতিভা সরকার বলে, ‘আনন্দ তো আছেই। তবে অভিভাবক ও স্যাররা বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানতেও সতর্ক আছি।’
সকালে স্কুলের ফটকের সামনে শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র নিয়ে প্রথমে নিজেই দাঁড়িয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার। পরে অবশ্য বিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা এ দায়িত্ব নেয়। শরীরের তাপমাত্রা বেশি, এমন অবশ্য কেউ ছিল না।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী ফরিদা পারভীন বলেন, ‘১৮ মাস পর শিক্ষার্থীদের চোখের সামনে দেখে কী যে আনন্দ হচ্ছে, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে হবে। প্রথম দিনের ক্লাসে আমরা স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে আলোচনা করব।’ আরেক সহকারী শিক্ষক হাফিজা আক্তার বলেন, প্রথম দিন মুখে মাস্ক পরে আসায় অনেক শিক্ষার্থী কিছুটা অপ্রস্তুত হচ্ছে। তবে তারা মাস্ক খুলছে না।
ময়মনসিংহের জিলা স্কুল, প্রিমিয়ার আইডিয়াল স্কুল, মুকুল নিকেতন উচ্চবিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইস্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম দিন স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনেই শুরু হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।