
গ্রামের পাশে ফসলের মাঠ। সরু রাস্তা নেমে গেছে সে মাঠে। এই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে একটি সেতু। দুই পাশ ফাঁকা। সেতুতে ওঠার জন্য নেই কোনো সংযোগ সড়ক। প্রায় ২২ বছর আগে পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের রামাকান্তপুর গ্রামে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকার লোকজন সেতুর কোনো সুফল পাননি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। সেতুর পাশে চলাচলের নিচু রাস্তা। এ রাস্তা দিয়েই মানুষ মাঠে যাওয়া-আসা করেছেন। রামাকান্তপুর গ্রামের আফতাব প্রামানিক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সেতুডা যহন অয়, তহন আমি যুবক ছিলেম। এহন মেলা বয়স। এত বছর খালি সেতুডা দেহেই গেলেম, কুনু কাজে লাগল না।’
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজনার বিলবেষ্টিত গ্রামটি বৃষ্টির পানিতে ৬–৭ মাস জলাবদ্ধ থাকে। এরপর পানি নেমে গেলে মাঠে ফসল আবাদ শুরু হয়। এই মাঠ থেকে ফসল আনার জন্য স্থানীয় চাষিরা একটি সড়ক নির্মাণের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ফাঁকা মাঠের মধ্যে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও সেতুটির কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন মাঠে চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর পাশ দিয়ে মাটি ফেলে একটি সরু রাস্তা তৈরি করেছেন।
এ বিষয়ে রামাকান্তপুর গ্রামের আনিছ উদ্দিন বলেন, তাঁদের গ্রামসহ আরও তিনটি গ্রামের মানুষ সেতুর পাশের এই সরু রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। বর্ষার সময় এ এলাকা ডুবে যায়। তখন নৌকা ব্যবহার করতে হয়। সে কারণে এই এলাকায় তাঁরা একটি সড়ক নির্মাণের দাবি জানান। কিন্তু রাস্তার জন্য সেতু নির্মাণ করা হলেও সড়কটি আর হয়নি। ফলে সেতুটিও কোনো উপকারে আসেনি। আর সেতুটি অনেক উঁচু। এখানে সড়ক করতে হলে এ সেতু ভেঙে ফেলতে হবে, অথবা নিচু করে আরেকটা সেতু নির্মাণ করতে হবে।
এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, সেতুটি অনেক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। তবে সেতুটি শিগগিরই পরিদর্শন করা হবে। সংযোগ সড়ক করা গেলে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।