কিশোরগঞ্জ সদর আ.লীগ

২৫ বছর পর সম্মেলন, কমিটি ঘোষণায় লাগল ২৫ মিনিট

সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস ছাত্তার
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৫ বছর পর অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ সদর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কমিটি ঘোষণায় লেগেছে মাত্র ২৫ মিনিটি। কাউন্সিলরদের ভোট ছাড়াই সম্মেলন মঞ্চ থেকে তাৎক্ষণিক ঘোষণা করা হয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম। যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণার জন্য সদ্য বিলুপ্ত সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আতাউর রহমানসহ স্থানীয় অনেক নেতা মঞ্চ থেকে দাবি করেছিলেন। তবে বিষয়টি আমলে নেননি কেন্দ্রীয় নেতারা।

আজ বুধবার জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে কিশোরগঞ্জ সদর আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেনকে সভাপতি এবং সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুস ছাত্তারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

দুপুরের পর সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারাসহ স্থানীয় নেতারা সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত বক্তব্য দেন। পরে সম্মেলনের বিশেষ অতিথি ঢাকা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মির্জা আজম বলেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত বহু আকাঙ্ক্ষিত এ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে। তবে সময়স্বল্পতার কারণে এই মঞ্চ থেকেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। উপস্থিত সবার কাছে ১৫ মিনিট সময় চেয়ে নেন তিনি। এ সময় তিনি পদপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হবেন, তাঁরা সাদা কাগজে নিজেদের নাম লিখে মঞ্চে বসা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে জমা দেন।’

সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে সম্মেলনের উদ্বোধক ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় অনেকে চিৎকার করতে থাকেন।

এ ঘোষণার পর সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ১৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে ৯ জন নাম জমা দেন। নাম জমা নেওয়ার পর পদপ্রত্যাশীদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে পাঁচ মিনিটের মধ্যে একজনকে সভাপতি ও একজনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করতে বলা হয়। কিন্তু তাঁরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে পারেননি।

দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৫ মিনিটের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করে মির্জা আজম উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু আপনারা যাঁরা প্রার্থী হয়েছিলেন, আপনাদের সুযোগ দেওয়ার পরেও নেতা নির্বাচিত করতে পারেননি। তাই আমরা এখন নাম ঘোষণা করব। এতে নিশ্চয়ই কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। দুই সদস্যের নবগঠিত এ কমিটি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে।’

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক। আজ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে

সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে সম্মেলনের উদ্বোধক ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে আওলাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবদুস ছাত্তারের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় অনেকে চিৎকার করতে থাকলে জিল্লুর রহমান তাঁদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘প্রায় ছয় বছর আগে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিও এভাবে সম্মেলন থেকে তাৎক্ষণিক ঘোষণা করা হয়েছিল। সেদিন আমি পদ না পেলেও চুপ থেকে মেনে নিয়েছিলাম। আপনারাও যাঁরা পদবঞ্চিত, তাঁরা এ কমিটিকে মেনে নেবেন আশা করছি।’

এর আগে সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই দলের খুঁটি ও শক্তি। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়কে ঠেকিয়ে রাখার কোনো শক্তি নেই। বিএনপি আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তাদের কোনোভাবেই অহেতুক আন্দোলন করতে দেওয়া হবে না। আন্দোলন করে অতীতে তারা সফল হননি, ভবিষ্যতেও কখনো সফল হবেন না।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর, আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক শামসুন নাহার, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য রিয়াজুল কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম, সদস্য মসিউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান উদ্বোধক ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল প্রধান বক্তা ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আতাউর রহমান। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।