
জনপ্রতি ৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ির আশপাশের লোকজনকে করোনাভাইরাসের টিকা দিচ্ছেন এক নারী। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মসজিদ মোড় এলাকায় আজ শুক্রবার টিকা দেওয়ার ঘটনাটি জানাজানি হয়। টিকা দেওয়া ওই নারীর নাম মোছা. নাসরিন (২৭)। তিনি মসজিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিলিয়ে মোট চারজনকে তিনি করোনার টিকা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। নাসরিন টিকা দেওয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেউ নন, এমনকি হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও নন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সর্বশেষ আজ শুক্রবার বিকেলে মো. দেলোয়ার হোসেন নামের একজনকে করোনার টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই নারী। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন ওই নারী। একপর্যায়ে স্বীকার করেন, এটি জ্বরের ইনজেকশন। এর কিছুক্ষণ পরে তিনি করোনার টিকা দিচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেন। নাসরিন তখন দ্রুত ঘর থেকে ৩০০ টাকা এনে দেলোয়ারকে ফেরত দেন।
নাসরিনের কাছ থেকে করোনার টিকা নিয়েছেন স্থানীয় বৃষ্টি আক্তার নামের এক নারী। তিনি জানিয়েছেন, ৩০০ টাকার বিনিময়ে নাসরিনের কাছ থেকে টিকা নিয়েছেন তিনি। বৃষ্টি আক্তার বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকার আরও দু-একজন তাঁর (নাসরিন) কাছ থেকে করোনার টিকা নেওয়ার খবর পেয়ে তিনি নিজেও আগ্রহী হন। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে টিকা নিতে হয় বলে তিনি বাড়িতেই ওই টিকা নেন। স্থানীয় আরও দুই নারী নাসরিনের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে করোনার টিকা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
টিকাদানকারী নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রায়ই রোগী নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া-আসা করেন। তাই হাসপাতালের লোকজনের সঙ্গে তাঁর একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার কয়েকজন রোগী নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। পরে সেখানকার টিকাদানকারীদের কাছ থেকে তাঁর অসুস্থ মাকে টিকা দেওয়ার কথা বলে একটি ফাইল নিয়ে আসেন। সেই ফাইল থেকেই কয়েকজনকে টিকা দেন তিনি।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাস শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে টিকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। ওই নারী কোন জায়গা থেকে টিকা পেয়েছেন, তা আমরা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। আপাতত আমরা গণটিকা কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক ব্যস্ত আছি। ওই নারীর সব তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।