দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় বরিশাল নগরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জেল খাল। সম্প্রতি পোর্ট রোড থেকে তোলা
দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় বরিশাল নগরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জেল খাল। সম্প্রতি পোর্ট রোড থেকে তোলা

বরিশাল নগর

৭টি খাল খননে ব্যয় হবে ৭ কোটি টাকা

গত সোমবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল দরপত্র বাক্স খোলা হবে।

বরিশাল নগরের ৭টি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দখলে-দূষণে মৃত প্রায় খালগুলো খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে সাত কোটি টাকা।

পাউবো সূত্র জানায়, গত সোমবার এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল দরপত্র বাক্স খোলা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এপ্রিল মাসের শেষ দিকে শুরু হবে খননকাজ। সাত কোটি টাকায় শুধু খালগুলো খনন হবে। সৌন্দর্যবর্ধন ও উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পরে আরেকটি দরপত্র আহ্বান করা হবে। বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্পভুক্ত ৭টি খাল হচ্ছে সাগরদী খাল, চাঁদমারী খাল, ভাটার খাল, জেল খাল, আমানতগঞ্জ খাল, পলাশপুর খাল ও রূপাতলী খাল। এসব খালের উৎসমুখ হচ্ছে নগরের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তনখোলা নদী। সাতটি খালের ১৮ কিলোমিটার খনন হবে এই প্রকল্পের আওতায়।

নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, নগরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ৭টি খাল খনন প্রকল্পের দরপত্র গতকাল অনলাইনে প্রকাশ হয়েছে। ১৪ এপ্রিল দরপত্র বাক্স খোলা হবে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে খালগুলো খননে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

পাউবো জানায়, নগরের সাতটি খালের ১৮ কিলোমিটার খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পাউবোর পক্ষ থেকে ১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাউবোর ‘৬৪ জেলা নদী-খাল খনন প্রকল্প’-এর আওতায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়। তবে খালগুলোর দুই পাশে দখলদারদের উচ্ছেদ করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ কিছুটা সময়সাপেক্ষ। এ জন্য এখন কেবল খনন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আলাদা আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

বরিশাল নগরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ২২টি খাল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দখলে-দূষণে বেশির ভাগ খাল এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু খাল সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক খালের অস্বস্তি আর নেই। যেসব খাল এখনো টিকে আছে, সেগুলো গত দুই দশকে বিভিন্ন সময়ে খননের নামে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তবে কাজের কাজ তেমন কিছু হয়নি।

পাউবোর বরিশাল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, গত মৌসুমে অস্বাভাবিক জোয়ারে খাল-নালা দিয়ে কীর্তনখোলার পানি প্রবেশ করে নগরের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। নগরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পটি গ্রহণের তাগিদ দেন। খালের গভীরতা বাড়লে জোয়ারের পানি নগরে কম ঢুকবে।

বরিশাল নগরের খাল দখলমুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, খালগুলো খননের নামে আগে অনেক তামাশা হয়েছে। এবার স্থানীয় সাংসদ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে একত্রে ৭টি খাল খননের উদ্যোগ হয়েছে। খালগুলোকে খনন করলেই চলবে না, এর উৎস এবং পতনমুখ অবমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় খনন করার কোনো সুফল নগরবাসী পাবে না। একই সঙ্গে নকশা ধরে পুরোনো খালের সীমানা নির্ধারণ ও দখলদার উচ্ছেদ করাও জরুরি।