'মনে হলো নতুন জীবন পেয়েছি'

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

‘মুক্ত বাতাসে বের হয়ে মনে হলো নতুন জীবন পেয়েছি। আমাকে যাঁরা চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, সেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

এমন অনুভূতি করোনাজয়ী আশিকুর রহমানের (৩৬)। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্টের এই ভিডিওগ্রাফার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৬ দিন হাসপাতালে ছিলেন। সুস্থ হয়ে এখন তিনি ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) আছেন শরীয়তপুরের ডামুড্যার গ্রামের বাড়িতে। অসুস্থ হওয়া, হাসপাতালে চিকিৎসা, সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা মুঠোফোনে জানালেন প্রথম আলোর কাছে।

আশিকুর রহমান কাজ করেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ঢাকা কার্যালয়ে। তিনি ২৬ মার্চ পর্যন্ত করোনাসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গেছেন।

২৬ মার্চ রাতে তেজগাঁওয়ের কার্যালয় থেকে যাত্রাবাড়ীর বাসায় যাওয়ার পর প্রথম জ্বর অনুভব করেন আশিকুর রহমান। বললেন, ‘২৬ মার্চ রাতে জ্বর অনেক বেশি ছিল। ২৭ মার্চ মাথাব্যথা বেড়ে যায়। এরপর আইইডিসিআরে ফোন করি। তাদের পরামর্শে বাসায় অবস্থান করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। জ্বর ও কাশি বেড়ে গেলে ৩০ মার্চ আবার আইইডিসিআরে ফোন করি। ১ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহের জন্য আইইডিসিআরের লোক আসেন বাসায়।’

আইইডিসিআরের লোকজন বাসায় আসায় ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল এই সংবাদকর্মীকে। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষ ও বাড়ির মালিক খুব ঝামেলা শুরু করেন। কেন আইইডিসিআর থেকে লোক এল। আমি কেন হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে আছি।’২ এপ্রিল আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, আশিকুর রহমানের করোনা পজিটিভ। ‘পরীক্ষার ফল জানার পর আমি খুব ঘাবড়ে যাই। সেদিনই কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হই।’ বললেন করোনাজয়ী এই সংবাদকর্মী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কখনো কখনো দুশ্চিন্তাও ভর করত আশিকুরকে। ‘আমাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, সেখানে বয়স্ক এক ভদ্রলোকও ছিলেন। তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। ওই অবস্থা দেখে পাঁচ রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। সব সময় দুশ্চিন্তা হতো।’

তবে কখনোই মনোবল হারাননি আশিকুর। ওষুধ সেবনের পাশাপাশি নিজ থেকে গরম পানি পান করতেন, গরম পানির ভাপ নিতেন এবং গার্গল করতেন। এমনকি হালকা ব্যায়ামও করেছেন তিনি।

চিকিৎসাসেবায় ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন তিনি। আশিকুর বললেন, ‘১৩ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরের দিন জানতে পারি, ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। মনে সাহস পাই। ১৭ এপ্রিল আবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ১৮ এপ্রিল জানানো হয়, আমার শরীরে আর করোনা নেই। সেদিনই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

আশিকুর রহমান বর্তমানে ডামুড্যার গ্রামের বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে আছেন। জানতে চাইলে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা খোকন প্রথম আলোকে বলেন, আশিকুর সুস্থ আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত তাঁর খোজখবর রাখছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ১৬ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এই সাংবাদিক। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, ‘সবাইকে আহ্বান জানাই সতর্ক থেকে সচেতন হয়ে ঘরে বসেই করোনা জয় করুন। কারোরই যেন হাসপাতালে না যাওয়া লাগে।’