
মাটির ঘরে কাঠের তৈরি চৌকির ওপর একটা কাঁথা। আরেকটি ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে তীব্র শীতে ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ মাকে নিয়ে রাত কাটান মাহিনুর আক্তার (৩০)। তীব্র শীতে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি এই মা-মেয়ে। বৃহস্পতিবার প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কম্বল পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন মাহিনুর। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘পেটের খিদা সয়, কিন্তু শীতের খিদা সওয়া যায় না।’
বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসাবাড়ি ও খাবার হোটেলে সুপেয় পানি সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন মাহিনুর। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মা সুফিয়া বেগমকে নিয়ে পটুয়াখালী শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপারী বাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। আজ মাহিনুরের মতো পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০০ শীতার্ত মানুষের মধ্যে প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ কম্বল বিতরণ করা হয়। চলতি শীতে যাঁরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে সহায়তা করেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। এর আগে প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে শীতার্ত মানুষের ঘরে ঘরে কম্বল বিতরণের টোকেন বিতরণ করা হয়। নির্ধারিত দিনে টোকেন নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে এসে কম্বল সংগ্রহ করেন তাঁরা।
কম্বল পেয়েছেন সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের পায়রা নদীর পাড়ের বৃদ্ধ ফুলবরু বেগম। তিনি বলেন, ‘এত শীত গেল, কেউ একটা কম্বল দেয়নি। আগে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা দিত, এবার কেউ দেয়নি।’ ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের আরও সাত নারীকে কম্বল দেওয়া হয়েছে।
কম্বল পেয়ে ভবঘুরে ইসমাইল হোসেন (৫৬) বলেন, ‘এবার এত শীত গ্যালো, রাইতে ঘুমাইতে পারি নাই। কেউ একটা কম্বল দেয়নি। আম্মেরাই কম্বল দিলেন। আল্লাহর কাছে আপনেগো লইয়া দোয়া করুম।’
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি বিলাস দাস, প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলাম, এ কে এম কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অশোক কুমার দাস, কবি আনোয়ার হোসেন, শিকদার জাবীর হোসেন, পটুয়াখালী বন্ধুসভার সভাপতি মারিয়ম আক্তার, সহসভাপতি কাওসার আহমেদ ও অপূর্ব দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুশমিতা মণ্ডল ও সাদিয়া আফরীন, দপ্তর সম্পাদক রেদোয়ান হোসেন, পাঠাগার সম্পাদক অর্পণ বিশ্বাস, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক জয়ন্তি দাস, বইমেলা সম্পাদক এস এম সাগরসহ অন্যরা।
শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।