রাজশাহী আলোর পাঠশালার মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের তালাইমারি এলাকায়
রাজশাহী আলোর পাঠশালার মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের তালাইমারি এলাকায়

পদ্মার পানি বাড়ায় আলোর পাঠশালায় পরিবার নিয়ে তিন শিক্ষার্থীর আশ্রয়

গত মঙ্গলবার বিকেলেও রাজশাহী আলোর পাঠশালার মাঠের নিচে ছিল পদ্মা নদীর পানি। এক রাতেই সেই মাঠ তলিয়ে গেছে নদীর পানিতে। এরই মধ্যে নদীতীরের বন্যাকবলিত এলাকার তিন শিক্ষার্থীর পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পাঠশালার একটি কক্ষে। পানি বাড়তে থাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গাও হয়ে উঠেছে এই আলোর পাঠশালা।

আলোর পাঠশালায় পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেওয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী চাঁদনী বলে, ‘এই স্কুলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু পড়াশোনার নয়। নদীর পানি বাড়লে স্কুলটাকেই আমাদের নিরাপদ জায়গা মনে হয়। শিক্ষকেরা আমাদের পরিবারের মতো করে দেখেন। তাই বিপদের সময় স্কুলে এসে আমরা সাহস পাই।’

এই পাঠশালা প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ও সহযোগিতায় পরিচালিত।  

পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে আলোর পাঠশালায় আশ্রয় নিয়েছে তিনি শিক্ষার্থীর পরিবার। আজ দুপুরে তালাইমারি এলাকায়

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৪ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির বিপৎসীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক শূন্য ৫ মিটার। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছয়টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। আজ বেলা তিনটায় পানি বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৯১ মিটার।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, পানি বাড়ায় এরই মধ্যে আলোর পাঠশালার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছে দশম শ্রেণির ছাত্রী চাঁদনী, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা ও শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী দোলা।

চাঁদনীর মা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই স্কুলটা আমাদের মতো মানুষের জন্য কতটা উপকারের, সেটা বলে বোঝানো যাবে না। প্রতিবছর নদীতে পানি বাড়লেই আমরা আতঙ্কে থাকি। কখন বাড়িতে পানি উঠে যায়, কখন ঘর ছেড়ে বের হতে হয়, এই চিন্তায় থাকি। তখন আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা এই স্কুল। পানি বাড়লেই আমরা এখানে চলে আসি। ম্যাডাম আমাদের জন্য রুম ছেড়ে দেন, থাকতে দেন। আমাদের কষ্টের কথা বুঝে নিজের পরিবারের মানুষের মতো সহযোগিতা করেন। এই স্কুলটা না থাকলে বিপদের সময় আমরা কোথায় গিয়ে থাকব, সেটা ভাবতেই পারি না।’

শিক্ষার্থী ফারজানা বলে, ‘পানি বাড়লে আমাদের বাড়িতে থাকতে ভয় লাগে। চারদিকে পানি আর পানি। তখন আমরা স্কুলে চলে আসি। এখানে শিক্ষকেরা আমাদের খুব আপন করে নেন। পরিবার নিয়ে স্কুলে থাকতে পারলে আমাদেরও অনেক নিরাপদ মনে হয়।’

এ বিষয়ে কথা হয় ফারজানার মায়ের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে নদীর পানির মধ্যে থাকা খুব কষ্টের। বিশেষ করে রাতে পানি বাড়লে ভয় আরও বেড়ে যায়। তখন আলোর পাঠশালাই আমাদের আশ্রয়। ম্যাডাম কখনো বলেন না যে এখানে থাকা যাবে না; বরং আমাদের থাকতে দেন, খোঁজখবর নেন। এর চেয়ে বড় সহায়তা আর কী হতে পারে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজিনা খাতুন প্রথম আলাকে বলেন, কয়েক দিন ধরেই পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। তাঁদের পাঠশালার মাঠটি একেবারেই পদ্মা নদীর ঘাটসংলগ্ন। আগের দিন বিদ্যালয় ছুটির সময় পানি ছিল মাঠের একটু নিচে। আজ সকালে এসে দেখেন পুরো মাঠ প্লাবিত হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে পাঠশালার মেঝেতে পানি উঠে যাবে। তখন ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে তিন শিক্ষার্থীর পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আলোর পাঠশালায় আশ্রয় নিয়েছে।