গ্রাহকদের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সাত কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে
গ্রাহকদের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সাত কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে

গ্রাহকদের দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ, ডাকঘরের ৭ কর্মচারী কারাগারে

গ্রাহকদের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রাজবাড়ী জেলার প্রধান ডাকঘরের সাত কর্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হায়দার আলী এ আদেশ দেন। আসামিরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। এ ছাড়া অপর ছয় আসামি হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

আদালত যাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন, তাঁরা হলেন জেলার প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার মহবুবুর রহমান, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এমএলএসএস (কার্যসহকারী ও অফিস সহায়ক) রেজাউল আলম, সাবেক পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল অপারেটর বিউটি রানী দাস ও নুরুল মাসুদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকেরা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করার জন্য ডাকঘরে টাকা জমা দেন। তাঁদের টাকা জমার রসিদও দেওয়া হয়। তবে সেই টাকা ডাকঘরের কোষাগারে জমা করা হয়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার নামের এক গ্রাহক গত ৩০ জুলাই রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার ধার্য তারিখে আজ মঙ্গলবার ১৩ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ জহুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অর্থ আত্মসাতের মামলায় হাজিরার দিন সাত আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ছাড়া আদালতে অনুপস্থিত অপর ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এদিকে আসামিদের শাস্তি ও আত্মসাৎ করা টাকা ফেরতের দাবিতে আজ সকাল ১০টার দিকে আদালত চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টে জমানো টাকা হারিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাঁদের সংসারে অশান্তি দেখা দিয়েছে। দ্রুত টাকা ফেরত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।