নাটোরের গুরুদাসপুরে ৭ বছর বয়সী এক শিশুর বয়স ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে ওই শিশুকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেনকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ৭ বছরের এক শিশু আদালতে হাজির হয়ে গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখতে পান, বাদী মামলার এজাহারে ওই আসামির বয়স ২১ বছর উল্লেখ করেছেন। অথচ জন্মনিবন্ধন অনুসারে ঘটনার তারিখে তার বয়স প্রায় সাত বছর ছিল।
শিশুটি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানতে পেরে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে শিশুটির প্রকৃত বয়স কেন উল্লেখ করা হয়নি, এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। আজ সশরীর আদালতে হাজির হয়ে তাঁকে কৈফিয়ত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে গত ২৬ এপ্রিল প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর উল্লেখ করে মামলা, বাদীকে আদালতে তলব’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন ও বাদী শাহানুর রহমান আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খোঁজে এলাকায় গিয়েছিলেন। তবে আত্মগোপনে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়স যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বয়স কম থাকার বিষয়টি আসামিপক্ষও পুলিশকে জানায়নি। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আবেদন করেন তিনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁকে অবিলম্বে বাদীর বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় ভুল তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন। এ আদেশের পাশাপাশি আদালত তাঁকে সাত দিনের মধ্যে ওই শিশুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বখতিয়ার হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাদী আদালতের কাছে এ বিষয়ে ক্ষমা চাইলে আদালত বলেন, এ অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। বয়স দুই-এক বছর কমবেশি হতে পারে। তাই বলে ৭ বছরের শিশুর বয়স ২১ বছর লেখার কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল কাদের বলেন, অসত্য তথ্য সরকারি কর্মচারীকে সরবরাহ করলে দণ্ডবিধির ১৭৭ ও ১৮২ ধারায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।