
অবৈধভাবে সড়কে পার্কিং করেছিলেন এক কারচালক। অভিযানে গিয়ে বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ হন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। এ সময় ওই গাড়িচালককে কান ধরে ওঠবস করতে বলেন তিনি। একই সময়ে এক ট্রাফিক পুলিশকে কড়াভাবে শাসাতে দেখা যায় মেয়রকে।
ঘটনাটি গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার। এদিন ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে সিটি করপোরেশন। তবে কারচালককে মেয়রের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিওটি আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চালককে বের হতে নির্দেশ দেন মেয়র। এ সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বাইর হ। এই শোন, তুই এখানে রাখছস আজকে জরিমানা হবে তোর। কান ধরো, ১০ বার ওঠাবসা করো। টাকা না দিলে...টাকা যে দিতে চাইবে না কান ধরে ওঠাবসা করান।’
এরপর ওই এলাকায় থাকা এক ট্রাফিক পুলিশকে কড়া ভাষায় শাসন করতে দেখা যায় মেয়রকে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি কি ট্রাফিক বিভাগে চাকরি করো? এখানে দায়িত্ব তুমি?’ এতে ওই ট্রাফিক সদস্য সম্মতিসূচক মাথা নাড়েন।
এরপর মেয়র বলেন, ‘তোমার এখানে সব গাড়ি। এখানে গাড়ি কেন? কিসের চাকরি করতেছ? আমি তোমার চাকরিসহ নট করে দিব। আমি বলে দিলাম। আমি লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি তোমার এখানে যদি আমি গাড়ি দেখি।’
তবে অভিযানের সময় গাড়িচালককে কান ধরে ওঠবস করানোর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখিছেন নেটিজনেরা। কেউ অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে মেয়রের অবস্থানকে সমর্থন করলেও, প্রকাশ্যে একজন নাগরিককে কান ধরে ওঠবস করানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪৭ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত পার্কিং এলাকা ছাড়া অন্য স্থানে গাড়ি পার্কিং করা নিষিদ্ধ। এ বিধান ভঙ্গ করলে আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চালকের ক্ষেত্রে ১ দোষসূচক পয়েন্ট কর্তনের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ আইনে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।
জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আখতার কবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন মেয়র হিসেবে নাগরিকের প্রতি এমন অসম্মানজনক আচরণ তাঁর কাছ থেকে কাম্য নয়। কেউ আইন ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি হবে। কিন্তু প্রকাশ্যে একজন নাগরিককে এভাবে অসম্মান করা একপ্রকার অন্যায়। এ ঘটনার জন্য মেয়রের প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।’