সুনামগঞ্জ হাওর পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য দিচ্ছেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে
সুনামগঞ্জ হাওর পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য দিচ্ছেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে

হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)। তিনি বলেন, ‘হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবং হাওর পরিস্থিতি নিয়ে করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। হাওরে ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প নেওয়া যাবে না। জনগণের টাকা অপচয় করা যাবে না।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের হাওর পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুল হাবিব এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধনগর) সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুর রহমান, সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সমর কুমার পাল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আকবর আলী ও শেরেনূর আলী, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে।

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নিয়ে কিছু কথা শোনা যাচ্ছে। তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা টানা তিন মাস সরকারের সহযোগিতা পাবেন। এ জন্য তাঁদের কার্ড দেওয়া হবে। হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই গণতান্ত্রিক সরকার সব সময় থাকবে।
সুনামগঞ্জ একফসলি এলাকা উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কৃষকেরা এই ফসলের ওপরই নির্ভরশীল। হাওরে বজ্রপাতের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে বেশি বেশি শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) নির্মাণ করা হবে। সরকার অনেক জায়গায় বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র করে। কিন্তু সুনামগঞ্জে সে রকম হবে না। আমরা ছোট ছোট অনেক কৃষক আশ্রয়কেন্দ্র হাওরে করে দেব। এগুলোতে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও সাইরেনের ব্যবস্থা থাকবে। দুর্যোগ মুহূর্তে কৃষকদের দ্রুত এই এসব শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।’

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘কৃষি ও কৃষকের প্রশ্নে সরকার কোনো কম্প্রমাইজ করবে না। এই সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, কৃষকের অবস্থা শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা ও পানির সমস্যার সমাধানে করণীয় নির্ধারণে প্রকৌশলীদের কাজে লাগিয়েছি। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে, আগামী দিনে যেন হাওরের কৃষক আর এভাবে সংকটে না পড়েন। এই সংকট যেন বারবার না হয়। এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

বিকেলে দুই মন্ত্রী এবং অন্যরা জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপারের ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ কৃষকের হাতে সরকারি সহায়তা তুলে দেন। প্রত্যেক কৃষককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান জানান, টানা তিন মাস ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারের এই অর্থ ও চাল সহায়তা পাবেন।