
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই সহকারী প্রক্টর। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তাঁরা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এ অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অব্যাহতি নেওয়া দুই শিক্ষক হলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পারভীন আক্তার। ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ তাঁরা সহকারী প্রক্টর পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এর মধ্যে অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রক্টর কার্যালয়ে অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে তা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। আজ পারভীন আক্তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর দুটি একসঙ্গে প্রক্টর কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অব্যাহতির বিষয়ে অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় নানা দায়িত্ব রয়েছে। গবেষণার কাজ ও বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের কারণে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ ছাড়া আমি শহরে থাকি, যার ফলে দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে অব্যাহতিপত্র দিয়েছি।’
প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘দুই সহকারী প্রক্টর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েছেন। মো. বজলুর রহমান ফেব্রুয়ারিতে আবেদন করলেও এত দিন তা রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠানো হয়নি। প্রক্টরিয়াল বডির কাজের চাপের কারণে বিলম্ব হয়েছে। আজ দুজনের অব্যাহতিপত্র একসঙ্গে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পবিত্র রমজানের আগেই অব্যাহতিপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আমার কাছে কোনো পত্র পৌঁছায়নি।’
প্রক্টর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন সহ–উপাচার্য নিয়োগের পাশাপাশি পাঁচ সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান ও অধ্যাপক পারভীন আক্তারও ছিলেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
বর্তমানে ছয় শিক্ষক সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা হলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. কোরবান আলী, রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আককাছ আহমেদ, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ বিন কামাল, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. নুরুল হামিদ, নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক মো. খাইরুল ইসলাম ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মীর হোসেন মজুমদার।