চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা

সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’। আজ বিকেলে
ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পুরোনো কলাভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের উম্মে সাবাহ তাবাসসুম, লোকপ্রশাসন বিভাগের ইশতিয়াক আহমেদ, আইন বিভাগের সুসান কবির, বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র এবং ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইশতিয়াক আহমেদ, দাবিগুলো তুলে ধরেন সুসান কবির এবং সঞ্চালনা করেন ওমর সমুদ্র।

লিখিত বক্তব্যে ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ৩০ আগস্ট রাতে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় রক্তাক্ত সংঘর্ষ হলেও প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্বহীনতার কারণে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষেও উসকানি এসেছিল এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। তিনি অভিযোগ করেন, সকালে শিক্ষার্থীদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সংঘর্ষে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় বারবার ফোন করলেও প্রক্টরিয়াল বডি নানা অজুহাতে দেরি করে ঘটনাস্থলে আসে। এর আগে থেকেও ফোন না ধরা এবং সময়মতো উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না। তাঁদের ভাষায়, ‘এই প্রক্টরিয়াল বডি অযোগ্য, ব্যর্থ ও আনফিট।’

ইশতিয়াক আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, হামলার বিচার শেষ হওয়ার আগেই প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে তৎপর হয়ে ওঠে। আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ক্লাস-পরীক্ষা চালু রাখা হয়। মামলার এজাহারে মূল সূত্রপাত ঘটানো দারোয়ানের নাম নেই, বরং এলাকায় অনুপস্থিত অনেককে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগও তোলেন। তাঁদের দাবি, প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতা আড়াল করতে কিছু গোষ্ঠী মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে।

সুসান কবির শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে আহত শিক্ষার্থীদের মানসম্মত চিকিৎসার নিশ্চয়তা, ক্যাম্পাসে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাল শনিবারের মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ না করলে এবং সাত দফা দাবি পূরণ না হলে তাঁরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সে জন্য আবাসনের বিষয়েও পরিকল্পনা আছে। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি।’

৩০ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে পরদিন বেলা ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় ক্যাম্পাস-সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। একজনকে এখনো লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।