
সড়কটিতে দীর্ঘ সময় ধরে লেগে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ যানজট। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাক, বাস, পিকআপ, অটোরিকশাগুলোকে বিভিন্ন দিকে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন শার্ট পরা একজন। সঙ্গে আরও কয়েকজন তাঁকে সহযোগিতা করছিলেন। তাঁদের ভূমিকায় অল্প সময়ের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরে।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এই দৃশ্য চোখে পড়ে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কে। যিনি শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন, তিনি ওই এলাকার (গাজীপুর-৩) সংসদ সদস্য (এমপি) এস এম রফিকুল ইসলাম (বাচ্চু)। পেশায় চিকিৎসক। যানজটে শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজে সেখানে তিনি প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন। এরপর মাওনা চৌরাস্তার অন্যান্য সংযোগ সড়কে যান ওই সংসদ সদস্য।
সংসদ সদস্যকে এমন পরিবেশে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেখলেও যানবাহনের বেশির ভাগ চালক-যাত্রী তাঁকে চিনতে পারেননি। অনেকেই ভেবেছেন, স্বেচ্ছাসেবক। তবে তাঁকে যাঁরা চিনতে পারছিলেন, তাঁরা এই কাজের প্রশংসা করেছেন। আগ্রহ নিয়ে তাঁর এ কাজে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় অনেক নেতা–কর্মী।
ওই সড়কের যাত্রী মো. ইয়াসিন মোল্লা বলেন, ‘জানতে পারলাম, তিনি এমপি। সড়কে এসে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। এটা ভালো বিষয়।’ অপর যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, এমপি সড়কে আসার পর পুলিশও তৎপর হয়েছে। ফলে দ্রুত যানজট সমস্যার সমাধান হয়েছে।
একই সড়কের অটোরিকশাচালক সালমান মিয়া বলেন, এমপি নিজে এসে কাজ করার কারণে সড়কের যানজট পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর আর এই পরিস্থিতি থাকবে না। এ জন্য পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দিলে আরও ভালো হয়।
ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা সেলিম বন্দুকসী প্রথম আলোকে জানান, একজন সংসদ সদস্য যখন রাস্তায় নামেন, তখন গাড়িচালকেরাও আরও সচেতন হয়ে উঠেছেন। বিষয়টি নেতা-কর্মীদের জন্যও উৎসাহব্যঞ্জক। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ছিলেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘সড়কে এমপি নামার পর পরিস্থিতিই পাল্টে গেছে। আমরা নিজেরা নেমে কাজ করছি। কোনোভাবেই যেন সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, তা দেখছি।’
সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সেখানে নেমে কিছুক্ষণ ছিলাম। যতটুকু পেরেছি, চেষ্টা করেছি। সড়ক–সংশ্লিষ্টদের কাজে উৎসাহ দিয়েছি। সেখানে দাঁড়িয়ে পুলিশকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি।’