গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া সদর থানায়
গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া সদর থানায়

ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করেন চেতনানাশক, কোমল পানীয়র সঙ্গে খাইয়ে বন্ধুকে হত্যা

ইন্টারনেট ঘেঁটে নাজিম উদ্দিন বের করেন চেতনানাশক। এরপর বন্ধুকে কর্মস্থলে ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে পান করান। মৃত্যুর পর তাঁর লাশ বস্তায় ভরে বগুড়া শহরের একটি এলাকায় ফেলে রাখেন। বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) হত্যার ঘটনায় এ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় নাজিম ও তাঁর বন্ধু মো. স্বপন (২৮) জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম স্বীকার করেছেন। ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁরা হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর গত ১২ আগস্ট বগুড়া শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী অজ্ঞাতনামা একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওয়াহেদের স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন। প্রায় এক মাস পর আজ বৃহস্পতিবার তাঁর ভাই সোহেল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহেদ স্টেশন সড়কে তাঁর বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল। কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে ওই বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা স্বপনকে ও এক লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ওয়াহেদ হোসেন

নাজিমের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিরোধের জেরে দুই বন্ধু ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট তাঁকে মালগ্রাম এলাকায় ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নাজিম তাঁর মুঠোফোনে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খোঁজেন। পরে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। একপর্যায়ে ওয়াহেদ মারা গেলে রাতে তাঁর লাশ বস্তায় ভরে সেখান থেকে কিছু দূরে একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন ৮ আগস্ট সকালে নাজিম ও স্বপন তাঁদের কর্মক্ষেত্র থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

নিখোঁজের পর ওয়াহেদের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ১২ আগস্ট লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করেন। এরপর মৃত ব্যক্তির মুঠোফোন বিশ্লেষণ করে নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পায় পুলিশ।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, নাজিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, নাজিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের আগে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খোঁজার কথা জানিয়েছেন। হত্যায় ব্যবহৃত দ্রব্য, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও স্বপনের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।