হাতকড়া
হাতকড়া

জবানবন্দির তথ্য

বোনকে উত্ত্যক্ত করার জেরে সহপাঠীকে হত্যা, দুই স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার

নেত্রকোনার মদনে হাওরের বোরো খেতে মাটিচাপা দেওয়া স্কুলছাত্র সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে শাওন (১৫) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সহপাঠীর বোনকে উত্ত্যক্ত করার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ দুই স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে।

ওই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

নিহত স্কুলছাত্র গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী ভূঁইয়ারহাটি গ্রামের আওলাদ হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। সে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন (টি আমিন) পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় সাইফুল কদমশ্রী বাজারে তার এক আত্মীয়ের দোকানে বসে ছিল। এ সময় তার দুই সহপাঠী বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে এলে তাদের সঙ্গে বের হয় সে। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সোমবার দুপুরে পুলিশ বিকাল বাজারসংলগ্ন হাওরের বোরো খেত থেকে অর্ধেক মাটিচাপা অবস্থায় রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন সাইফুলের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত বুধবার সন্ধ্যায় সাইফুলের দুই সহপাঠীকে আটক করা হয়। তাদের উভয়ের বয়স ১৫ বছর। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করলে গতকাল দুপুরে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এক কিশোর তার বন্ধু সাইফুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জবানবন্দিতে ওই কিশোর জানিয়েছে, একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া তার ছোট বোনকে সাইফুল প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়েটি রাজি না হওয়ায় সাইফুল বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করত। সাইফুলকে নিষেধ করা হলেও তা শোনেনি। এর প্রতিশোধ নিতে চারজন মিলে রোববার রাতে সাইফুলকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ বোরো খেতের মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান প্রথম আলোকে বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই কিশোরের মধ্যে একজন আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।