দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। আজ সোমবার সকালে
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। আজ সোমবার সকালে

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ, ৭ ঘণ্টা পর চালু

ঘন কুয়াশায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজিরহাট নৌপথে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গতকাল রোববার মধ্যরাতে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা পর আজ সোমবার সকাল সোয়া সাতটা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

অন্যদিকে প্রায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল সোয়া নয়টা থেকে আরিচা-কাজিরহাট রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ছাড়া প্রায় ১৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আজ সকাল ৯টা থেকে এই দুই নৌপথে লঞ্চ চলাচলও শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াশার কারণে আগের দিন রাত থেকে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল। এরপর গতকাল মধ্যরাত থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে আবারও কুয়াশা পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া রো-রো (বড়) ফেরি খানজাহান আলী রাত ১২টার দিকে মাঝনদীতে কুয়াশায় আটকা পড়ে। পরে ফেরিটি মাঝনদীতে নোঙর করতে বাধ্য হয়। এ অবস্থায় রাত সোয়া ১২টার দিকে কর্তৃপক্ষ এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এ সময় পাটুরিয়া প্রান্তিক এলাকার ৩ নম্বর ঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও হাসনাহেনা, ৪ নম্বর ঘাটে ঢাকা এবং ৫ নম্বর ঘাটে বাইগার নামের পাঁচটি ফেরি নোঙর করে কুয়াশা কমার অপেক্ষায় থাকে।

একইভাবে দৌলতদিয়া এলাকায় ৪ নম্বর ঘাটে এনায়েতপুরী এবং ৫ নম্বর ঘাটে ভাষাসৈনিক গোলাম মাওলা ও শাহ মখদুম নামের তিনটি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা পর সোমবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে কুয়াশা কমলে উভয় ঘাট থেকে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহন নিয়ে ফেরিগুলো চলাচল শুরু করে।
এদিকে আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে রাত সাড়ে ১১টা থেকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, কুয়াশার কারণে দুই সপ্তাহ ধরে রাতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আগের দিন প্রায় ১৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রোববার রাত সাড়ে ১১টা থেকে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ফেরিগুলো ঘাটের কাছেই নোঙর করে রাখা হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর সোমবার সকাল সোয়া নয়টা থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে লঞ্চ চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। রোববার রাত আটটার পর থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর সোমবার সকাল ৯টা থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. শিমুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার কারণে প্রায় প্রতি রাতেই লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ১৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সোমবার সকাল থেকে এই দুই নৌপথে লঞ্চ চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে।