বরিশাল নগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের ১৯ নেতা–কর্মীসহ ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল সকাল থেকে বরিশাল মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক পৃথক দল নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৩ জন, নিয়মিত মামলায় ৫৭ জন, বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ৬ জন এবং অন্যান্য আইনে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ৭৭ জনের মধ্যে ১৯ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ জনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী। তাঁরা হলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর উদ্দিন শাহীন, কোষাধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য কামাল উদ্দিন আহমেদ, জাগুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল মাঝি, ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি খান, সদস্য জনি হাওলাদার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য মো. রাতুল হাওলাদার, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয় মালী, আবেদ আজিজুল হাকিম ওরফে সোহেল বিশ্বাস, মেহেদি হাসান মিলন, সিরাজুল ইসলাম রাব্বি, সমর্থক পলাশ হাওলাদার, নূর উদ্দিন শাহীন, মো. মাসুম, মো. আসাদ, মো. ওয়ালিদ, মারুফ হোসেন, আতিকুর রহমান খান, মো. ফয়েজ ও মো. সেলিম শরীফ।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম আজ দুপুরে বলেন, নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।