পানিতে ডুবে মৃত্যু
পানিতে ডুবে মৃত্যু

নাটোর ও লালমনিরহাটে গোসলে নেমে দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু

নাটোরের সিংড়া ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় গোসলে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে সিংড়া শহরের গোডাউন ঘাটে আত্রাই নদে গোসলে নেমে কৌশিক সাহা (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী মারা যান। এর আগে দুপুরে পাটগ্রামের বাউরা ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে পুকুরে গোসলে নেমে রাসেল মিয়া (১৮) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

মৃত কৌশিক সাহা রাজশাহী নগরের পবাপাড়ার কুমার সাহার ছেলে। তিনি উচ্চমাধ্যমিকে পড়ালেখা করতেন। শুক্রবার সিংড়া শহরে নানা জয়দেব সাহার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কৌশিক সাহা শনিবার বেলা একটার দিকে গোডাউন ঘাট এলাকায় আত্রাই নদে গোসল করতে নামেন। গোসলের এক পর্যায়ে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল এসে বিকেল ৫টার দিকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন।

জয়দেব সাহা বলেন, ‘কৌতূহলবশত কৌশিক ঘাটে গিয়ে গোসল করতে শুরু করেছিল। ঘাটের সিঁড়ি থেকে পিছলে গিয়ে সে নদীতে ডুবে যায়।’

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসমাউল হক বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় লাশ সৎকারের জন্য স্বজনদের দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মৃত রাসেল মিয়া পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি চলতি বছর হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন সরকারি কলেজে থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাসেল শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে পুকুরে কয়েকজন স্কুলছাত্র মিলে গোসল করতে নামেন। হঠাৎ তিনি পানিতে তলিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর রাসেলকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাউরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, রাসেল মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাটগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পুকুরের পানিতে ডুবে তরুণের মৃত্যুর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।