লোকমুখে ছড়িয়েছে মানিকগঞ্জের ‘পলাশের পানতোয়া’র সুনাম

মানিকগঞ্জের পলাশের পানতোয়া
ছবি: প্রথম আলো

স্বাদে ও মানে অতুলনীয় হওয়ায় মানিকগঞ্জের ‘পলাশের পানতোয়া’ মিষ্টির কদর জেলার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা শহরের বাজারের লক্ষ্মীমণ্ডপ এলাকায় পাওয়া যায় বিশেষ ধরনের নরম এই মিষ্টি। ‘পলাশ মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামের দোকানে মিলবে ‘পলাশের পানতোয়া’। পেছনেই এই মিষ্টি তৈরির কারখানা।

ছানা ঘিয়ে ভেজে চিনির রসে ডুবিয়ে তৈরি করা হয় এই মিষ্টি। এখনো এই মিষ্টির মান ধরে রেখেছেন এই সময়ের কারিগরেরা। পূর্বপুরুষের ব্যবসাটি প্রায় দুই যুগ ধরে দেখভাল করছেন স্বপন কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি। মিষ্টি তৈরি তাঁদের আদি পেশা।

স্বপন ঘোষ জানালেন, ১৯৬০ সালে তাঁর বাবা বুদ্ধমন্ত ঘোষ মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর বড় ভাই কালীপদ ঘোষ ও তিনি মিষ্টির ব্যবসায় যুক্ত হন। তখন ভাই কালীপদের ছেলের নামে দোকানের নামকরণ করা হয় ‘পলাশ মিষ্টান্ন ভান্ডার’। পরে কালীপদ ঘোষ পাশে আরেকটি দোকান নিয়ে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন। পলাশ মিষ্টান্ন ভান্ডার এখন স্বপন ঘোষই চালান।

পানতোয়া বানানো শুরুর প্রসঙ্গে স্বপন ঘোষ বলেন, ১৯৮৯ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে তিনি কলকাতায় বেড়াতে যান। সেখানে কালীপূজায় বিশেষ ধরনের মিষ্টি পানতোয়া খেয়ে তাঁর ভালো লাগে। পরে তিনি মিষ্টির ব্যবসায় যুক্ত হলে ২০০০ সালের দিকে পলাশ মিষ্টান্ন ভান্ডারে পানতোয়া তৈরি শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মিষ্টির স্বাদ ও ঘ্রাণের কারণে ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেড়ে যায়। লোকজনের মুখে মুখে ছড়ায় ‘পলাশের পানতোয়া’র সুনাম। জানালেন, প্রতিদিন তিনি ১০০ থেকে ১২০ কেজি পানতোয়া তৈরি করেন। প্রতিটি পানতোয়া ৪০ টাকা করে এবং প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দোকানের মিষ্টির কারিগরেরা বলেন, প্রতিদিন ছয় থেকে সাত মণ কাঁচা দুধ কেনা হয়। পরে জ্বাল দিয়ে দুধ থেকে ছানা তৈরি করা হয়। সেই ছানা দিয়ে গোলাকৃতির মিষ্টির মতো বানিয়ে ঘিয়ে ভাজা হয়। সেখান থেকে তুলে ছেড়ে দেওয়া হয় পানি ও চিনির তৈরি শিরায়। এভাবেই তৈরি হয় সুস্বাদু ও নরম পানতোয়া।

দোকানের একজন ক্রেতা জেলা সদরের পোড়রা এলাকার বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, ‘সময় পেলে প্রায়ই এই দোকানে পানতোয়া খেতে আসি। এর স্বাদ ও মান আগের মতোই আছে।’ খাওয়ার পর বাড়ির জন্য তিন কেজি পানতোয়া কিনে নিয়ে যান তিনি।

জেলা ক্যাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার বলেন, বিশেষ ধরনের মিষ্টি পানতোয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় তৈরি করা হয়ে থাকে। দেশেও কয়েকটি স্থানে পানতোয়া তৈরি করা হয়। ‘পলাশের পানতোয়া’ সুস্বাদু হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেলার বাইরে থেকেও অনেকে এখানে পানতোয়া কিনতে আসেন।