জামালপুরে ৫০০ টাকার বাজিতে জীবন্ত শালিক খেয়ে ফেলা মো. সাহাদুল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে মাদারগঞ্জ থানায়
জামালপুরে ৫০০ টাকার বাজিতে জীবন্ত শালিক খেয়ে ফেলা মো. সাহাদুল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে মাদারগঞ্জ থানায়

৫০০ টাকার বাজিতে জীবন্ত শালিক খেয়ে গ্রেপ্তার

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৫০০ টাকার বাজি ধরে জীবন্ত শালিক পাখির পালক ছাড়িয়ে কাঁচা মাংস ছিঁড়ে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কোয়ালিকান্দি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সাহাদুল্লা (৫৫)। তিনি কোয়ালিকান্দি বাজার এলাকার বাসিন্দা। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জীবন্ত পাখি চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
স্নেহাশীষ রায়, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাদারগঞ্জ থানা

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের রাস্তার পাশে বসে থাকা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি একটি জীবন্ত ছোট পাখি হাতে নিয়ে এর পালক ছাড়াচ্ছেন। এরপর পাখিটির মাংস ছিঁড়ে কাঁচা চিবিয়ে খাচ্ছেন তিনি। এ সময় তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন পথচারী, রিকশাচালক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের কেউ কেউ মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করছিলেন।

ভিডিওটি প্রথম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিক সাদ্দাম হোসাইন। তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে কোয়ালিকান্দি বাজারে এক ব্যক্তির সঙ্গে ৫০০ টাকার বাজি ধরে জীবন্ত পাখি কাঁচা খাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক যুবক তাঁকে এ ঘটনার ভিডিও পাঠান। বিষয়টি নিষ্ঠুর মনে হওয়ায় ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন বলে জানান সাদ্দাম।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, বাজি বা বিনোদনের নামে একটি জীবন্ত শালিক পাখিকে এভাবে নির্যাতন করা অমানবিক ও নিন্দনীয়। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘জীবন্ত পাখি চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হচ্ছে।’