২২ আগস্ট নলজুর নদের কাটাগাঙ্গের ওপর বেইলি সেতু ভেঙে ট্রাক নদে পড়ে চালক ও তাঁর সহকারীর মৃত্যু হয়।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের নলজুর নদের কাটাগাঙ্গের ওপর ভেঙে যাওয়া বেইলি সেতুর সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার সড়ক যোগাযোগ দূরত্ব কমাতে গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে এ মহাসড়কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার কমায় সড়কে যাতায়াতের যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনে যানবাহন পরিবহনের চাপ বাড়ে। ২২ আগস্ট বিকেলে ঢাকা থেকে ৫০০ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে জগন্নাথপুর বাজারে যাওয়ার পথে নলজুর নদের কাটাগাঙ্গের ওপর বেইলি সেতু ভেঙে ট্রাক নদে পড়ে চালক ও তাঁর সহকারীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মৃত গাড়িচালক ও অজ্ঞাতনামা গাড়িমালিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে সওজ অধিদপ্তর সেতুর সংস্কার কাজ শুরু করে এবং আজ মঙ্গলবার থেকে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে বলে ঘোষণা দেয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরাম যুগ্ম আহ্বায়ক রুমানুল হক বলেন, ২০১৭ সাল থেকে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হয়েছিল কাটাগাঙ্গের ওপর বেইলি সেতুটি। মহাসড়কে জোড়াতালির ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, সেতু ভেঙে দুজনের মৃত্যুর পর মৃত চালকের বিরুদ্ধে সওজের মামলা ও নতুন করে রাতের আঁধারে সর্তকতামূলক সাইনবোর্ড সাঁটানোর ঘটনা দুঃখজনক।
জগন্নাথপুর বাজার তদারক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্ব বৈদ্য জানান, এক সপ্তাহ ধরে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণে৵র মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সড়ক ব্যবহার করতে পারলে কম সময়ে ও কম খরচে মালামাল পরিবহন করা যায়।
সুনামগঞ্জ সওজ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানান, ভেঙে যাওয়া বেইলি সেতুতে নতুন করে পাটাতন বসিয়ে জরুরিভাবে সংস্কার কাজ জোরেশোরে চলছে। আশা করছি, সোমবার দিনরাত কাজ করে শেষ করতে পারব। এবং মঙ্গলবার থেকে সেতু দিয়ে যান চলাচল করবে।
সুনামগঞ্জ সওজ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, সেতুটি সংস্কারে আনুমানিক ৩৫–৪০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে মহাসড়কটি চালুর জন্য অতিরিক্ত শ্রমিক লাগিয়ে সংস্কারকাজ চলছে। কাটাগাঙ্গের ওপর নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজ থেকে সেতু দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে বলে আশা করছি।