
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদরে নিজ বসতঘর থেকে মো. শাহীন কাদির (৪৮) নামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা সদরের ধর্মপাশা পশ্চিমপাড়া গ্রাম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শাহীন কাদির ওই গ্রামের মৃত সুনু কাদিরের ছেলে। তিনি এনসিপির ধর্মপাশা উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
ধর্মপাশা থানা–পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহীন কাদির রাত আটটার দিকে বসতঘরের বারান্দার কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে খাবার খেতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ডাকাডাকি শুরু করেন।
পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য, দরজা না খোলায় একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কক্ষের আড়ার সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় শাহীনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরে খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহীনের ভাতিজা আসিফ আহমেদ বলেন, তাঁর চাচা দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই মেরুদণ্ডের ব্যথায় কাতরাতেন। চিকিৎসা করেও কোনো সুফল পাননি।
এনসিপির ধর্মপাশা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আজিজুল হক বলেন, ‘শাহীন কাদির কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, তা বুঝে উঠতে পারছি না। তাঁর মৃত্যুতে আমরা খুবই মর্মাহত।’
ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম রাত সোয়া ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।