ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ভোটে হেরে যাওয়ার কারণ জানাতে কুমারখালীর হলবাজার সংলগ্ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীরা। বুধবার দুপুরে
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ভোটে হেরে যাওয়ার কারণ জানাতে কুমারখালীর হলবাজার সংলগ্ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীরা। বুধবার দুপুরে

কুষ্টিয়া–৪ আসন

বিএনপি প্রার্থীর হারের কারণ ‘অযোগ্য’ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ (রুমী) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার জন্য ‘অযোগ্য’ নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে দায়ী করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা। উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং যুবদলের ব্যানারে গতকাল বুধবার দুপুরে কুমারখালী হলবাজার–সংলগ্ন কুমারখালী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবু প্রমুখ। আনছার প্রামাণিক এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা আন্দোলন–সংগ্রাম করেছিলেন।

আর যুবদলের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ওবাইদুল ইসলাম (রিপন)। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, ইউনুস আলী প্রমুখ।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ আসনে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে জয় পান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী পান ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে দলের খোকসা উপজেলার সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী দাবি করেন, মনোনয়নবঞ্চিতদের অসহযোগিতার কারণে আসনটিতে তাঁদের প্রার্থী হেরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, ২২ ফেব্রুয়ারি কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যে অভিযোগ এনেছেন, তা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। মনোনয়নবঞ্চিতদের কারণে নয়; বরং অদক্ষ, অযোগ্য ও অসাংগঠনিক নেতা–কর্মীদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

লুৎফর রহমান আরও অভিযোগ করে বলেন, তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও দল থেকে মেহেদী আহমেদ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সবাই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কার্যক্রম চালিয়েছেন। তবে প্রার্থী দলের সাংগঠনিক নেতা–কর্মীদের বাদ রেখে কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব শাতিল মাহমুদ ও সাবেক জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাকের (বাচ্চু) দ্বারা নির্বাচন করেছেন। তাঁরা বিগত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না; বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন। বিতর্কিতদের দ্বারা ভোট পরিচালনা করায় সাধারণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

অপর সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়, বরং যুবদলের আহ্বায়ক জাকারিয়া আনছারের (মিলন) নেতৃত্বে ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন তাঁরা। ভোটের প্রচারণা ছবি ও ভিডিও আছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, অযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রার্থীকে ভুল তথ্য দিয়ে ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রার্থী দলের ত্যাগী নেতা–কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিজয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। সে জন্য ভোটে পরাজয় হয়েছে। এখন তাঁদের ব্যর্থতা ঢাকতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যাচার করছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রার্থীসহ একাধিকবার মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে বসা হয়েছিল। বসাবসিতে তাঁরা আশ্বাস দিলেও ভেতরে–ভেতরে দাঁড়িপাল্লায় ভোট করেছেন। কতিপয় দলীয় নেতা–কর্মীর বেইমানির কারণেই ধানের শীষ হেরেছে। বেইমানদের বিরুদ্ধে সাংগঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে।