‘যাত্রী নিয়ে গাড়ি উঠলে সেতুটি কেঁপে ওঠে। যাত্রীদের মতো চালক হিসেবেও আমিও তখন আতঙ্কে থাকি। বিশেষ করে সেতুতে গর্ত থাকায় সন্ধ্যার পর গাড়ি চালাতে বেশি ভয় লাগে।’ ফেনীর জরাজীর্ণ বিরিঞ্চি সেতু নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল আলম। সম্প্রতি সরেজমিনে সেতুটি দেখতে গিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
ফেনী পৌরসভার বিরিঞ্চি ও সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের সংযোগস্থলে কুমড়াছড়া খালের ওপর অবস্থিত সেতুটি। অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় আগে তৈরি করা সেতুটির মাঝখানে গর্ত তৈরি হয়েছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে, কোথাও পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়েই সেতুর এক পাশ দিয়ে নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।
দীর্ঘদিন সেতুটির সংস্কার হয়নি। তাই সেতুটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।কামরুল ইসলাম, বাসিন্দা, পশ্চিম সোনাপুর–ফেনী
ফেনীর বিরিঞ্চি-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ছোট ও মাঝারি বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সেতুর দুই পাশে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কমিউনিটি ক্লিনিক। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পৌরসভার শেষ সীমানা ও কাজিরবাগ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ সেতুটি ব্যবহার করেন। জরাজীর্ণ সেতুটি পার হতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকে সেতুটি নির্মিত হয়। স্থানীয় পশ্চিম সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন সেতুটির সংস্কার হয়নি। তাই সেতুটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পৌরসভার শেষ সীমানা ও কাজিরবাগ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ সেতুটি ব্যবহার করেন। জরাজীর্ণ সেতুটি পার হতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দা এসবি সাজু বলেন, ফেনীর বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ হলেও তাঁদের এই সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অতীতেও জনপ্রতিনিধিরা সেতুটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
জানতে চাইলে ফেনী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জরাজীর্ণ সেতুটির বিষয়টি উপজেলা পরিষদের নজরে আসার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে একটি খসড়া প্রকল্পও তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ওই স্থানে নতুন করে ১২ মিটার গার্ডার সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এ জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতুটি নির্মাণ করা হলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে।