ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার বাসচালক ও তাঁর সহকারী। শুক্রবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে দুজনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে ওই দুজনসহ গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
গত বুধবার রাতে সাভার থেকে আশুলিয়ায় যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল থেকে তরুণীকে উদ্ধারের পাশাপাশি বাসের চালক ও দুই সহযোগীকে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল রাতে তরুণী নিজে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ভিক্টর ব্যানার্জি জানান, গ্রেপ্তার বাসচালক আলতাফ (২৫) ও তাঁর সহযোগী মো. রাব্বি (২১) জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। তবে গ্রেপ্তার চালকের অন্য সহযোগী মো. সাগর (২৪) ঘটনার সময় বাসে থাকলেও ধর্ষণ করেননি বলে জানিয়েছেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আজ আলতাফ ও রাব্বিকে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে হাজির করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজাম তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁকে চিকিৎসকেরা হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই তরুণী। তখন বাসে আরও দুজন যাত্রী ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর তাঁরা বাস থেকে নেমে যান। এ সময় একা পেয়ে ওই তরুণীকে চালক আলতাফ ও সহযোগী রাব্বি ধর্ষণ করেন। পরে সাভার, আশুলিয়া, চন্দ্রা এলাকায় বিভিন্ন সড়কে সারা রাত বাস নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন। তরুণীকে ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করা হয়। চিৎকার করলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া।
বাসটি গতকাল সকালে টাঙ্গাইলের দিকে এসে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মহাসড়কের করটিয়া বাইপাস সড়কের আন্ডারপাস এলাকায় থামে। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের একটি টহল দল বাসটির কাছে গেলে তরুণী পুলিশের কাছে ধর্ষণের বিষয়টি বলেন। পরে চালক ও দুই সহযোগীকে আটক করে সদর থানায় হস্তান্তর করে হাইওয়ে পুলিশ।