চুয়াডাঙ্গায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে বিআরটিএ পরিদর্শকের লাশ উদ্ধার

সাইফুল্লাহ বাহার
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক পরিদর্শকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে ডাকবাংলোর দোতলা ভবনের নিচতলায় কপোতাক্ষ নামের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই কর্মকর্তার নাম সাইফুল্লাহ বাহার (৪১)। তিনি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পূর্ব ভাকম গ্রামের মো. মোক্তার হোসেনের ছেলে। দুই মাস আগে তিনি পরিদর্শক হিসেবে চুয়াডাঙ্গা বিআরটিএতে বদলি হয়ে আসেন। চুয়াডাঙ্গায় আসার পর থেকেই ডাকবাংলোর ওই কক্ষে একাই থাকতেন।

ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) ছমির উদ্দিন বলেন, গতকাল সকালে সাইফুল্লাহ বাহারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন সাইফুল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন, ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।’ আজ সকাল নয়টার দিকে বিআরটিএ অফিসের কর্মচারী আখতার হোসেন এসে সাইফুল্লাহর কক্ষের দরজায় ডাকাডাকি করেন। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আইনুল হুদা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জ্বরের কথা বলে সাইফুল্লাহ বাহার গতকাল সকাল ১০টায় ছুটি নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়েন। আজ সকালে অফিসে না আসায় ১০টার পর সাইফুল্লাহর মুঠোফোন নম্বরে কল করা হয়। তবে মুঠোফোনে না পেয়ে সিলড মেকানিক জাকির হোসেনকে ডাকবাংলোতে খোঁজ নিতে পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজে সেখানে যান। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে সাইফুল্লাহকে খাটের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাজিদ হাসান পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাজিদ হাসান বলেন, সাইফুল্লাহ বাহারের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ও লালাজাতীয় পদার্থ বের হতে দেখা গেছে। সাধারণত বিষক্রিয়া অথবা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে এ ধরনের রক্ত-লালা দেখা যায়। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

সাইফুল্লাহ বাহারের বড় ভাই মোতাহের হোসেন বাহার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’র কর্মকর্তা। ছোট ভাইকে মুঠোফোনে না পেয়ে তিনি আশা চুয়াডাঙ্গা শাখায় যোগাযোগ করেন। পরে আশার জ্যেষ্ঠ শাখা ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমানকে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে বলেন। বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনিও ঘটনাস্থলে এসে মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান বলেন, বিআরটিএ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের উপস্থিতিতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ওই কর্মকর্তার লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।