বরিশালের উজিরপুর পৌর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্মিত একটি সাঁকোর উদ্বোধন করেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাহার এলাকায়
বরিশালের উজিরপুর পৌর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্মিত একটি সাঁকোর উদ্বোধন করেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাহার এলাকায়

বরিশালে ফিতা কেটে সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা, চলছে নানা আলোচনা

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার মাহার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে নির্মিত একটি সাঁকোর উদ্বোধন নিয়ে ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান।

বিএনপির ওই নেতার ফিতা কেটে সাঁকো উদ্বোধনের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহার এলাকায় একটি খালের ওপর সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। খালের উত্তর পাড়ে হেরিংবোন সড়ক (ইট বিছানো সড়ক) থাকলেও সেটি ভাঙাচোরা। এ ছাড়া উঁচু জোয়ারের সময় সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই এলাকার জেলে ও অন্য বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁকোটি উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নারী-পুরুষ, বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক বাউলশিল্পী সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরচিত গানও পরিবেশন করেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। একজন লেখেন, ‘এই উদ্বোধন শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকেও হার মানিয়েছে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘পাকা রাস্তার ওপর বাঁশের সেতু দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করেছেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহিদুল ইসলাম খান কাঁচি দিয়ে সাঁকোর সামনে টানানো লাল ফিতা কাটছেন। পরে তাঁর এক সমর্থকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। একজন লেখেন, ‘এই উদ্বোধন শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকেও হার মানিয়েছে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘পাকা রাস্তার ওপর বাঁশের সেতু দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করেছেন।’ কেউ কেউ সাঁকো উদ্বোধনে কাঁচি ব্যবহারের বিষয় নিয়েও ব্যঙ্গ করেন।

জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত সাঁকোটি উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্যই এটি করা হয়েছে।’

পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে একজন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নেতা হিসেবে এ ধরনের আয়োজনের ধরন নিয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন খান বলেন, জোয়ারের পানি সড়কে উঠে যাওয়ায় বর্ষাকালে ওই এলাকার মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। বিশেষ করে জেলে ও খালের আশপাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেশি। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন।