‘মিশন ওয়ান মিলিয়ন’ সংগঠনটির সদস্যরা আড়াই বছরে ৭১ হাজার ৩০০টি গাছও রোপণ করেছেন।

সিলেটসহ সারা দেশে ১০ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করে ‘মিশন ওয়ান মিলিয়ন’ নামে তরুণদের একটা সংগঠন। আড়াই বছরে ৭১ হাজার ৩০০টি গাছ রোপণও করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠার ১০ বছরের মধ্যেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে চান সংগঠনটির সদস্যরা।
ওই সংগঠনের কয়েক তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সিলেটের কয়েক তরুণ আলেম-ওলামা, ছাত্র ও পেশাজীবী মিলে ‘মিশন ওয়ান মিলিয়ন’ নাম দিয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। গত আড়াই বছরে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা গাছ রোপণ করেন।
গাছ রোপণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির সদস্যরা বন্যার্তদের সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও দরিদ্রদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণও করেছে। সংগঠনটিতে তরুণ আলেম ফায়যুর রহমান প্রধান নির্বাহী এবং নাওয়াজ মারজান সমন্বয়ক হিসেবে আছেন। এ ছাড়া সাইয়ি্যদ মুজাদ্দিদ, মাসুম বিল্লাহ, হুসাইন ফাহিম, শেখ এনাম, সালমান আহমদ, ফয়সল হোসেন, মীম সুফিয়ান, আতিকুর রহমান নগরী, আহমদ আল কবির চৌধুরী, আহমদ উসমানসহ অন্তত ৩০০ তরুণ সংগঠনটিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
ফায়যুর রহমান জানান, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাঁরা সভা, সেমিনার হতে প্রায়ই দেখে থাকেন। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মোকাবিলার জন্য খুব কমই কাজে নামেন। এটি চিন্তায় রেখেই তাঁরা জলবায়ু রক্ষায় সরাসরি কাজে নেমেছেন। তাঁরা বনজ, ফলদ ও ঔষধি প্রজাতির ১০ লাখ গাছ রোপণ এবং ১০ লাখ মানুষকে গাছ রোপণে অনুপ্রাণিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, কৃষকের বাড়ি এবং সড়কের দুই পাশে তাঁরা গাছ রোপণ করে থাকেন। গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পদযাত্রা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তও তাঁরা নিয়েছেন।
‘মিশন ওয়ান মিলিয়ন’-এর সমন্বয়ক নাওয়াজ মারজান বলেন, প্রথমে নিজেদের অর্থায়নে গাছ রোপণের উদ্যোগটি নেওয়া হয়। এরপর সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরাও টাকা দিয়ে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। এ ছাড়া অনেকে গাছ দান করেও সহযোগিতা করছেন।