নরসিংদীতে এক গ্যারেজের ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চঞ্চল ভৌমিক (২৫) নামের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের দগরিয়া থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
গতকাল রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার’ ঘটনা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এটি জানাজানি হয়। তবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
চঞ্চল ভৌমিক কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন ভৌমিকের ছেলে। তিনি ওই গ্যারেজের একজন কর্মচারী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও ওই গ্যারেজে ঘুমিয়েছিলেন চঞ্চল। রাতে গ্যারেজে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় তাঁর অগ্নিদগ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরের দিন সকালে তাঁর পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে চঞ্চলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসহাক মিয়া বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে ধারণা করা হয়, শর্টসার্কিটের আগুনে দগ্ধ হন চঞ্চল। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি আশপাশ থেকে মবিলমাখা কাগজ-কাপড় কুড়িয়ে এনে ওই গ্যারেজের সামনে আগুন ধরান। তবে তাঁর আচার-আচরণ মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মতো মনে হচ্ছে। এ থেকে আগুনের সূত্রপাত কি না, বোঝা যাচ্ছে না। ঠিক কীভাবে আগুন লাগল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর আল মামুন বলেন, ফুটেজে যাকে দেখা গেছে, তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্যারেজের মালিকের কাছ থেকে একটা অভিযোগ নিয়ে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।