চাঁদাবাজি
চাঁদাবাজি

‘সর্বহারা’ পরিচয়ে এক কলেজের ৮ শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আট কলেজশিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে শিক্ষক ও তাঁদের স্বজনদের হত্যাসহ নির্মম পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।

এ তথ্য জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডিটি করেছেন কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল।

জিডিতে হুমকি পাওয়া আরও চার শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস ও প্রদীপ কুমার সাহা। সবাই প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী অধ্যাপক। কলেজটিতে বর্তমান শিক্ষকের সংখ্যা ৫৮।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে আমাদের আটজন হিন্দু সহকর্মীকে একই রকম হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমাদের সাবেক এক সহকর্মী ইতিমধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।
নিলয় কুমার সাহা, সহযোগী অধ্যাপক, কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ

জিডির পর একই ধরনের অভিযোগ জানিয়েছেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আরও তিনজন। তাঁরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিন লস্কর ও স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং বর্তমান সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার রায়।

সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে আমাদের আটজন হিন্দু সহকর্মীকে একই রকম হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমাদের সাবেক এক সহকর্মী ইতিমধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

পরেশ কুমার পালের করা জিডিতে উল্লেখ করা বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে তাঁর মুঠোফোনে একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি ‘সর্বহারা পার্টির’ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য। একপর্যায়ে তাঁকে (পরেশ কুমার পাল) হত্যার হুমকি দেন ওই ব্যক্তি।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ফোনদাতা ব্যক্তি দাবি করেছেন তাঁদের কয়েকজন সহকর্মী বর্তমানে কারাগারে। তাঁদেরকে ছাড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দরকার। এ জন্য অন্তত ২৫ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রত্যেক শিক্ষককে পাঠাতে বলেন। টাকা না পাঠালে একেক শিক্ষককে একেক ধরনের খারাপ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করার হুমকি দেওয়া হয়।

সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায় বলেন, তাঁকে ফোন করে লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাঁর ছেলের পায়ে গুলি লাগলে যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করবেন, সেভাবে টাকা সংগ্রহ করে পাঠাতে নির্দেশ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, টাকা না পাঠালে তাঁদেরকে রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো নির্মম পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।

চরমপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো প্রতারক চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ বিষয়ে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, ‘বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’