হত্যা
হত্যা

মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা, আদালতে ছেলের স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে ছেলে (১৬)। আদালত ওই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ওই কিশোরের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালত এ আদেশ দেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সখীপুরের গজারিয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে সোমবার রাতে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ওই কিশোরকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই ওই কিশোর পলাতক ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। আজ শুক্রবার সকালে তাকে টাঙ্গাইলের আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল খান জানান, জবানবন্দিতে ওই কিশোর জানায়, তার বাবা প্রবাসী। শনিবার সন্ধ্যায় সে মায়ের কাছে দেড় হাজার টাকা চায়। মা টাকা দিতে না চাওয়ায় দুজনের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার মা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তাকে একবার আঘাত করেন। ক্ষুব্ধ হয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে দেখে তার মা ও ছোট বোন (৪) ঘুমিয়ে আছে। এ সময় ঘরে থাকা একটি ইট দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে মায়ের লাশ বিছানা থেকে নামিয়ে ঘরের এক কোণে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখে। সকালে মাকে পাওয়া যাচ্ছে না, এমন কথা বলে ছোট বোনকে নিয়ে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। সেখানে বোনকে রেখে সে পালিয়ে যায়। তার বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।