নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বাবা রফিউর রাব্বি। ‘ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১১৩ মাস’ উপলক্ষে আজ সোমবার সন্ধ্যায় আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি থেকে তিনি এ দাবি জানান।
ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। নারায়ণগঞ্জের আলী আহাম্মদ চুনকানগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকর রায়। সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, খেলাঘর জেলা সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সিপিবির জেলা সভাপতি হাফিজুর ইসলাম, বাসদের জেলা আহ্বায়ক নিখিল দাস, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা প্রমুখ।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কারা ত্বকীকে হত্যা করেছে তিনি জানেন। গোয়েন্দা সংস্থার সব প্রতিবেদন তাঁর কাছে আছে। আমরা আজকে দাবি জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী কী জানেন এবং কী প্রতিবেদন তাঁর কাছে আছে, তা প্রকাশ করা হোক।’
প্রধানমন্ত্রীর নীরবতার সুযোগে ঘাতক চক্র নতুন করে চক্রান্তে নেমেছে অভিযোগ করে রফিউর রাব্বি বলেন, দেশে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন থাকলে সাড়ে ৯ বছর ধরে ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ থাকে না। অভিযোগপত্র তৈরি করেও তা আটকে রাখা হয় না। র্যাবের তদন্তে ওসমান পরিবার ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হলেও তাদের কাউকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। সরকারের মদদেই এই ঘাতক চক্র আজ আবার বেপরোয়া হয়ে মিথ্যাচারে মেতেছে।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমরা ত্বকী হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ তদন্তে নাম আসা সব ঘাতককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
র্যাবের তদন্তে উঠে আসা সব ঘাতককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ বলেন, ‘শামীম ওসমান যত মিথ্যাচারই করেন, ত্বকী হত্যার বিচারের কাঠগড়ায় আপনাকে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে।’
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র এখনো জমা হয়নি।