সুন্দরবনের নদ-নদীসহ সাগরে গত ২০ মে থেকে ৬৫ দিন সব প্রকার মাছ ধরার ওপর মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এর বাইরে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১ জুন থেকে ৯২ দিনের জন্য সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ, কাঁকড়া ধরা ও পর্যটক প্রবেশে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে বন বিভাগ। সব মিলিয়ে ১০৪ দিনের জন্য সুন্দরবনে ঢুকে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারবেন না জেলেরা। এর ফলে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ওপর নির্ভরশীল দেড় লক্ষাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি পর্যটক বহনকারী ট্রলার চালানোর সঙ্গে জড়িত পাঁচ শতাধিক শ্রমিক পরিবারও বিপাকে পড়েছে।
শ্যামনগর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩১ হাজার ৪৫৫। এর মধ্যে যাঁদের সাগরে ও সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরা ছাড়া অন্য কোনো পেশা নেই, এমন ১২ হাজার ৮৭৯ জনকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। তবে যাঁরা সাগরে মাছ ধরেন না, কেবল সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ধরে যাঁরা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।
এই হিসাবে সাতক্ষীরা রেঞ্জের ১৮ হাজার ৫৭৬ জন নিবন্ধিত জেলে নিষেধাজ্ঞার ১০৪ দিন সুন্দরবনে মাছও ধরতে পারবেন না, কোনো সহায়তাও পাবেন না। এর বাইরে আরও কয়েক হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী বাওয়ালি ও মৌয়ালেরাও দীর্ঘ তিন মাস বেকারত্বের মধ্যে কাটাবেন। ফলে পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপন করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলায় ২৩ হাজার ৪৫৩ জন, আশাশুনি উপজেলায় ৮ হাজার ২ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ৭১ জন ও তালা উপজেলায় ৩ হাজার ৮২১ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। সাগরে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত এসব জেলের মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ৮ হাজার ৩২৪ জন এবং আশাশুনি উপজেলার ৪ হাজার ৫৫৫ জনকে গত ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই এই ৬৫ দিনের জন্য মাথাপিছু ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
সুন্দরবন জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল সমিতির সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল বলেন, সাতক্ষীরা রেঞ্জে দেড় লক্ষাধিক জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে লক্ষাধিকই জেলে। ১০৪ দিন তাঁরা সুন্দরবনে ঢুকতে পারবেন না। এর মধ্যে মাত্র শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ১২ হাজার ৮৭৯ জনকে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। অন্যরা এ সময় কীভাবে চলবেন, তা কেউ জানে না।