এই তরুণ উদ্যোক্তার নাম সাগর হোসেন। সব খরচ বাদ দিয়ে সাগর হোসেন প্রতিবছর ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করছেন।

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করে কঠোর অধ্যবসায়ের পরও অনেক শিক্ষার্থী চাকরি পান না। বছরের পর বছর বেকার থাকেন। অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে হতাশ হয়ে পড়েন স্নাতক শ্রেণির ছাত্র সাগর হোসেন। তাই ছাত্রজীবনে চাকরির চিন্তা না করে তিনি মাশরুম চাষ শুরু করেন। প্রথম একটু সমস্যা হলেও এক বছরের মাথায় লাভের মুখ দেখেন। ছাত্রজীবনেই তিনি বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করছেন।
খুব সহজেই মাশরুম চাষে সাফল্য পাননি সাগর হোসেন। এ জন্য তাঁকে অনেক পরিশ্রম ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে মাশরুম চাষের জন্য তিনি প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। মাশরুম সেন্টার নামের তাঁর ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ তরুণের কর্মসংস্থান হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা সাগর হোসেনের (২৫) বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কৃষক বাবু প্রামাণিকের ছেলে। ব্যবসার পাশাপাশি সগর পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র।
সাগরের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পড়াশোনার জন্য তিন বছর আগেও সাগর হোসেন রাজবাড়ী শহরের একটি মেসে থাকতেন। সেখানে একদিন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে মাশরুম চাষের ওপর প্রতিবেদন দেখেন। প্রতিবেদন দেখে তিনি মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হন। পরে সফল মাশরুমচাষি হতে যুব উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি টিউশনি করে জমানো ও বাবার কাছ থেকে নেওয়া মোট পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে একটি টিনশেড ভবনে ২০২১ সালে মাশরুম চাষ শুরু করেন।
সাগর হোসেন মাশরুম চাষের ২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়েছেন। তাঁর ওই প্রতিষ্ঠানে তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। সাগর যখন ব্যবসা শুরু করেন, তখন তিনি স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র। সাগর হোসেন প্রথম বছরেই মাশরুম চাষে ব্যাপক লাভের সম্ভাবনা দেখতে পান। ২০২২ সালে মাশরুম চাষের পাশাপাশি বীজ উৎপাদনের কাজ শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি গ্রীষ্মকালে প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি মাশরুম উৎপাদন করেন, এর দাম ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।
শীতকালে তিনি প্রতি মাসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কেজি মাশরুম উৎপাদন করেন। যার বাজারমূল্য ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তাঁর প্রতি কেজি মাশরুম উৎপাদনে খরচ হয় ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। তিনি ২২০ টাকা কেজি দরে রাজধানী শহর ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন। এ ছাড়া তিনি প্রতি মাসে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করেন।