উদ্ধার করা হচ্ছে লরিতে আটকে যাওয়া চালকের সহকারীকে। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের সলিমপুরের মডার্ন পাইলন এলাকায়
উদ্ধার করা হচ্ছে লরিতে আটকে যাওয়া চালকের সহকারীকে। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের সলিমপুরের মডার্ন পাইলন এলাকায়

লরির ওপর আছড়ে পড়ল কনটেইনার, ভারী ক্রেনের সাহায্যে চাপা পড়া চালকের সহকারীকে উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দাঁড়িয়ে থাকা লরির ওপর আছড়ে পড়ে তুলাভর্তি একটি কনটেইনার। এতে লরির চালকের আসনের পাশে বসে থাকা সহকারী মো. ইয়াসিন (২৫) চাপা পড়েন। ভারী কনটেইনারটির নিচে ইয়াসিনের কোমরের নিচের অংশ আটকে ছিল। প্রাণে বাঁচতে চিৎকার করছিলেন তিনি। কনটেইনারটি প্রথমে একটি ক্রেন দিয়ে তোলার চেষ্টা করেও তোলা যায়নি। পরে ভারী ক্রেন এনে দুর্ঘটনার এক ঘণ্টা পর কনটেইনারটি সরিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াসিনকে উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের মডার্ন পাইলন এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সিএমপির আকবরশাহ থানা পুলিশের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, লরির কেবিনের ভেতরের বাঁ পাশে কনটেইনারের নিচে চাপা পড়ে আছেন ইয়াসিন। কিছুক্ষণ পরপর তিনি তাঁকে উদ্ধারের জন্য চিৎকার করছিলেন। চালক হৃদয় লরির খোলা অংশ দিয়ে তাঁকে বাতাস করছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন একটি হালকা ক্রেন এনে কনটেইনার সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ভারী একটি ক্রেন আনা হয়। সেটি দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত কনটেইনার ও লরি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে চট্টগ্রাম নগরের দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, ওই এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে এসে ইউটার্ন নেয়। এ সময় তুলাভর্তি কনটেইনার লরিটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ইউটার্ন নিতে থাকা কাভার্ড ভ্যানটিকে সামনে দিয়ে ঘুরতে দেখে লরিটি দ্রুত ব্রেক করে। এতে কনটেইনারটি ছিটকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি লরির ওপর পড়ে। ওই লরির ভেতরে ছিলেন ইয়াসিন।

আকবরশাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনায় আহত চালকের সহকারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর। বাঁ পায়ে আঘাত পেয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে তাঁদের থানায় নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের লোকজন মামলা দিতে চাইলে তা নেওয়া হবে। তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সচল করেছেন বলে জানান তিনি।