মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনা নিয়ে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলমের ব্রিফিং। শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে
মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনা নিয়ে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলমের ব্রিফিং।  শুক্রবার বিকেলে পুলিশ  সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে

মুঠোফোনের উচ্চ শব্দে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় মা-মেয়েকে হত্যা করেন প্রতিবেশী

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে এক নারী ও তাঁর মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ওই পরিবারের প্রতিবেশী এক ভাড়াটেকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

১৯ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের রাজানগর এলাকার ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা–মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মা–মেয়ে হলেন আমেনা বেগম (৩২) ও তাঁর মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৮)। আমেনা ও তাঁর মেয়েকে হত্যার ঘটনার দিন আমেনার মা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের সংবাদ সম্মলনে বলা হয়, উচ্চ শব্দে মুঠোফোন ব্যবহার এবং বাচ্চার সঙ্গে চিৎকার –চেঁচামেচিতে বিরক্ত হয়ে আমেনা ও তাঁর মেয়ে মরিয়মকে কাঠের টুকরা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে তাঁদের পাশের ঘরের ভাড়াটে। শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম। হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আমেনা বেগমের পাশের কক্ষের প্রতিবেশী ভাড়াটে মোহাম্মদ আলীকে (২৮)।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার দিন থেকে আমেনা বেগমের পাশের কক্ষের ভাড়াটে মোহাম্মদ আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন উৎসের তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাঁকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গজারিয়ার পাখির মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে মোহাম্মদ আলী আমেনা ও তাঁর মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

হত্যার কারণ হিসেবে মোহাম্মদ আলীর বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, আমেনার পাশের কক্ষে থাকতেন মোহাম্মদ আলী। আমেনা রাতে তাঁর নিজ ঘরে মুঠোফোনে অতিরিক্ত শব্দে নাটক দেখতেন, গান শুনতেন। এ ছাড়া রাতে ও সকালে আমেনা তাঁর মেয়ের সঙ্গে উচ্চ স্বরে চিৎকার–চেঁচামেচি করে কথা বলতেন। এ কারণে প্রতিদিন আলীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত। প্রতিদিনের ঘটনায় মোহাম্মদ আলীর এই বিরক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ১৯ জানুয়ারি সকাল সাতটার দিকে আমেনা বেগম তাঁর মুঠোফোনে উচ্চ শব্দে ভিডিও দেখছিলেন। এতে মোহাম্মদ আলীর ঘুম ভেঙে যায়। সেদিন ক্ষিপ্ত হয়ে আমেনা বেগমের কক্ষে ঢুকে ফোনের শব্দ কমাতে বলেন তিনি। সে সময় আমেনার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কাঠের টুকরা দিয়ে আমেনার মাথায় সজোরে আঘাত করেন মোহাম্মদ আলী। এতে আমেনা মারা যান। মরিয়ম বিষয়টি দেখে আতঙ্কিত হয়ে আলীর পা জড়িয়ে ধরে তাঁর মাকে বাঁচাতে মিনতি করে। সে সময় মরিয়মকেও একই কাঠের ডাসা দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে হত্যা করেন মোহাম্মদ আলী।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মোহাম্মদ আলী সিরাজদিখানের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজানগরে ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন। তিনি ভবঘুরে ও মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি একের পর এক স্থান পরিবর্তন করছিলেন। বাগান ও স্কুলের বারান্দায় রাত যাপন করছিলেন।