
মাদারীপুরে ইটেরপুল-ঘোষেরহাট আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের ইটেরপুল এলাকায় সওজ ভবনে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সড়কটির সংস্কারকাজের নথিপত্র সংগ্রহ করে সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে দুদকের প্রতিনিধিদল।
দুদক মাদারীপুর সমন্বিত কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গোপালগঞ্জ জোনের আওতাধীন ‘জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল থেকে পাথরিয়ারপাড় হয়ে ঘোষেরহাট পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সড়ক বিভাগ থেকে ২০১৯ সালের শুরুতে হওয়া দরপত্রে ৪১ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৬২৮ টাকায় কাজটি পায় বরিশালের মো. মাহফুজ খান লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি ২০১৯ সালের ৮ জুলাই শুরু হয়ে ২০২০ সালের ৭ জুলাই শেষ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। পরে চলতি বছরের ২৫ জুন প্রকল্পটির পুরো কাজ শেষ দেখিয়ে পুরো বিল উত্তোলন করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ৪ মাসের মধ্যেই সড়কটির অন্তত ১০টি স্থানে সুরক্ষাদেয়াল ধসে পড়ে। সড়কের ১৩ থেকে ১৫টি স্থান দেবে যায়। সুরক্ষাদেয়াল ধসে পড়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ নভেম্বর প্রথম আলোয় ‘সড়কের সুরক্ষাদেয়ালে ধস’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সহকারী পরিচালক আকতারুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল সওজ ভবনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সওজ মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেনকে তাঁর কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদও করেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদকের সহকারী পরিচালক আকতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হলে ঢাকা দুদক কমিশন থেকে আমাদের সড়কটির অনিয়ম অনুসন্ধানে নির্দেশনা দেয়। সেই মোতাবেক আমরা সওজে অভিযান পরিচালনা করি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। সরকারি এই অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমাদের সামনে ওই সড়কসম্পর্কিত নথিপত্র উপস্থাপন করেন। সেগুলোর ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বিচার–বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা পেলে পরে জানানো হবে।’
সওজ মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘দুদকের অভিযান সম্পর্কে দুদক বলতে পারবে। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। তাঁরা এসেছেন, যা যা জানতে চেয়েছেন, তা আমরা দেখিয়েছি। তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে মেরামত আরও এক মাস আগেই শেষ করেছেন ঠিকাদার। তাঁদের জামানত এখনো আমাদের কাছে রক্ষিত। আগামী দুই বছর এই সড়কে কোনো স্থানে কোনো প্রকার ক্ষতি হলে তাঁরাই মেরামত করে দেবেন। এখানে অনিয়মের কিছু হয়নি।’