
‘এই সরকার ব্যর্থ হলে এ দেশে কেউ বাস করতে পারবে না’—এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সময়ে যদি আমরা আমাদের কমিটমেন্ট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হই, তাহলে শুধু আমরা নই, সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।’
আজ শনিবার দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। হাসপাতালের রান্নাঘর, টয়লেট, স্টোররুম ও অস্ত্রোপচারকক্ষ পরিদর্শন করে বিভিন্ন সেবার মান যাচাই করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে তারেক রহমানের চেয়ে আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী আর আসবেন না। দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি সবাইকে কর্মস্থলে নিয়মিত দায়িত্বপালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্মস্থলে কর্মকর্তা–কর্মচারীদেরকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এরপরও যদি অনিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে টারমিনেশন কিংবা সাসপেনশনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এত দিন যতটা নমনীয় থাকা সম্ভব ছিল, ছিলাম। এখন আর নরম থাকার সুযোগ নেই। আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেব।’
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা দুটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র (লাইসেন্স) ও কাগজপত্র না থাকা এবং স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবা না পাওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক’ নামের একটি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়। একই অভিযোগে ‘ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হসপিটাল’ নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে ওই প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্লিনিক দুটি পরিদর্শনে এসে আমরা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাইনি। নরমাল ডেলিভারির ব্যবস্থাও ছিল না। বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে। তাই সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
এ ছাড়া সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা–সেবা দেওয়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলা তিনি বরদাশত করবেন না। প্রয়োজনে হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।