কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় দুই উপজেলার আরও ১৩ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার এ তথ্য জানানো হয়।
আজ সোমবার সকালে জেলা কমিটির মাধ্যমে বহিষ্কৃত নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত হন। বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে প্রথমে বহিষ্কার করা হয় বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমানকে। তিনি বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। পরে ২৬ জানুয়ারি একই কারণে ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এখন পর্যন্ত সংসদীয় এলাকার ৩১ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হলো। শেখ মজিবুর রহমান ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। সৈয়দ এহসানুল হুদা তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলীয় মনোনয়ন পান।
দলীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। প্রথমে এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় শেখ মজিবুর রহমানকে। পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয় সৈয়দ এহসানুল হুদাকে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামনুন রহমান, মাইজচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, গাজীরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, হিলোচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, কৈলাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, নিকলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাসুক মিয়া ও এখলাসুর রহমান, সহসভাপতি হারুন উর কাইয়ুম, সদস্য বদরুল আলম, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ, জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইসহাক মেম্বার।
বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বহিষ্কারের মাধ্যমে আমি ভারমুক্ত হয়েছি। এখন একটাই লক্ষ্য শেখ মজিবুর রহমানকে বিজয়ী করে ঘরে ফেরা।’
আপনার পক্ষ নেওয়ায় দলের অনেক নেতাকে বহিষ্কার হতে হচ্ছে, বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান বলেন, ‘খুব ভালো, অনেক ভালো। বহিষ্কৃতরাই এখন আমার আশীর্বাদ।’
মুঠোফোনে কথা হয় বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সঙ্গে। ১৩ জন নেতাকে বহিষ্কারের কথা শুনেছেন জানিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), জামায়াতে ইসলামীর মো. রমজান আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মো. দেলাওয়ার হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন (হারিকেন), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. অলিউল্লাহ (মোমবাতি)।