ফরিদপুরে ১১–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সোমবার নগরকান্দা উপজেলা সদরের মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে
ফরিদপুরে ১১–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সোমবার নগরকান্দা উপজেলা সদরের মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে

প্রশাসনের কাছে নালিশ দিলে ওনারা মুচকি মুচকি হাসেন: মামুনুল হক

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা) আসনে ১১–দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা আল্লামা আকরাম আলীকে সোজা-শান্ত মানুষ মনে করেছেন। বুজুর্গ মানুষ দেখে নরমসরম ভেবেছেন। হ্যাঁ, উনি সাদাসিধে মানুষ, এ ভেবে যদি তাঁর অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করেন, তাহলে জনতার কাঠগড়ায় আপনাদের পাই পাই করে মূল্য দিতে হবে। বারবার এখান থেকে খবর যায় আমার কাছে, আমরা এই নগরকান্দার সালথার কর্মীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত। আমাদের কর্মীদের, ভোটারদের ভয় প্রদর্শন করা হয়, ভীতি প্রদর্শন করা হয়। প্রশাসনের কাছে নালিশ দিলে ওনারা মুচকি মুচকি হাসেন।’

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সদরের মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি (এম এন একাডেমি) মাঠে আজ সোমবার বিকেল চারটায় এই নির্বাচনী সমাবেশ হয়। এতে জেলা জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের অন্যান্য দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১–দলীয় জোটের অন্যতম নেতা মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন, আপনারা এই এম এন একাডেমির মাঠ আমাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে অনেক গড়িমসি করেছেন। শেষ পর্যন্ত আমাকে কেন্দ্র থেকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। আজকের পর থেকে বলে দিতে চাই—আপনারা যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে না পারেন, এর সমস্ত দায়দায়িত্ব ফরিদপুরের ডিসির, নগরকান্দা-সালথার প্রশাসনকে নিতে হবে।’

১১টি দল দেশকে ভালোবেসে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিগত ৫৪ বছরের গুন্ডামি আর দুর্নীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে জনতার অধিকার আদায় করার লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শুরু করেছে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের এই মহান যাত্রা, আমাদের এই হাতে হাত রেখে এই ঐক্য গঠন কোনো নেতা, কোনো দল বা কোনো জোটকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য শুধু নয়। আমাদের এই ঐক্য বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য।’

স্বাধীনতার পর থেকে চব্বিশ পর্যন্ত এ দেশের মানুষ শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শুধু শোষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক। বাংলাদেশের মানুষকে আবার সেই আধিপত্যবাদী শক্তি, সন্ত্রাসবাদ, জুলুমবাদ, স্বৈরতন্ত্র, পেশিশক্তি, হেলমেট বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনীগুলো আবার মানুষকে ভয় দেখানোর রাজনীতি শুরু করেছে বলে জানান তিনি। নগরকান্দায় বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী বা দলের নেতা–কর্মীদের বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে দলের আমির বলেন, ‘পরিষ্কার ভাষায় শুনে রাখো—শাহ আকরাম আলী নগরকান্দা–সালথায় ভাড়াটিয়া থাকে না। তাঁর একজন নেতা–কর্মীর গায়ে যদি হাত দেওয়া হয়, তোমরা সেই আগুন সামাল দিতে পারবে না। গোটা বাংলাদেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।’

ফরিদপুর–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলের প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ। তাঁকে ইঙ্গিত করে মামুনুল হক বলেন, ‘এই এলাকায় আমাদের অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র একজন মরহুম জাতীয় নেতার সন্তান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আপনাকে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও প্রতিযোগিতায় স্বাগত জানাই এবং আপনার বাবাকে শ্রদ্ধা জানাই। মনে রাইখেন, আপনি যাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন, উনি আপনার বাবার বয়সী। যদি আপনি তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করতে পারেন, তাহলে পাশ করলেও অনেক হিসাব করে আপনাকে সংসদে ঢুকতে হবে। কাজেই সম্মান জানান, সম্মান পাবেন; শ্রদ্ধা জানান, প্রত্যুত্তর পাবেন। কেউ ভালোবাসা দিলে আমরা ভালোবাসা দিই, কিন্তু কেউ যদি আমাদের পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়, সেই কাঁটা উপড়ে ফেলার সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা ১১–দলীয় জোটের ১১ ভাই হাতে হাত রেখেছি। এবার বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার ফসল ঘরে তুলে দিয়েই আমাদের লড়াই ক্ষান্ত হবে।’