মারধর
মারধর

বাগেরহাটে মাছ চুরির অভিযোগ তুলে মারধর, চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মাছ চুরির অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তির বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুস শুকুর মৃধা (৫০) নামের ওই ব্যক্তিকে আজ সোমবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন তাঁর স্বজনেরা।

আহত আবদুস শুকুর মৃধা মোল্লাহাট উপজেলার ডাবরা গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার আঙরা এলাকায় চুরির অভিযোগে তাঁকে মারধর করে গুরুতর অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন মারধরকারীরা।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে এলাকায় মাছ চুরির ঘটনা বেড়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন, ক্ষোভ রয়েছে ঘেরমালিকদের। এর মধ্যে উপজেলার শোলাবাড়িয়া গ্রামের লিয়াকত মুন্সির মৎস্যঘেরে মাছ চুরির সময় শুকুর মৃধাকে লিয়াকতের ছেলে রোমান মুন্সী (২৬) আটক করেন। খবর পেয়ে সেখানে লোকজন জড়ো হন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। তাঁরা শুকুর মৃধার চোখে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর দুটি চোখই জখম হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর হাত, পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে।

শুকুর মৃধার পুত্রবধূ নিলা বেগম বলেন, তাঁর শ্বশুর অপরাধ করে থাকলে তাঁকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা যেত; কিন্তু যেভাবে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

ঘেরমালিক লিয়াকত মুন্সী জানান, তাঁর ছেলে রোমান মোল্লাকে শুকুরের সহযোগী দিনো মোল্লা আঘাত করেন। শুকুরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দিনো মোল্লা পালিয়ে যান। তখন উপস্থিত লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে শুকুর মৃধাকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মারধরের শিকার শুকুর মৃধাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বজনেরা জানিয়েছেন, শুকুরের হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁর চোখেও আঘাত করেছেন মারধরকারীরা।’

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সম্মানকাঠি গ্রামে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে এক যুবককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন এবং খুঁচিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়। গুরুতর আহত মো. রহমতউল্লাহ শেখ (২৭) বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।