৩১ বছর ধরে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে চলছে ইটভাটা

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে ৩১ বছর ধরে চলছে এ বি এম ব্রিকস নামের এই ইটভাটা। ৪ জুনের চিত্র এটি
ছবি: ইমতিয়াজ উদ্দিন

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে ১৯৯২ সালে গড়ে তোলা হয়েছে এ বি এম ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা। শুরু থেকেই এর বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে জরিমানা আদায় করা হলেও কখনো বন্ধ হয়নি ইটভাটার কার্যক্রম। সব বাধানিষেধ উপেক্ষা করে ৩১ বছর ধরে বিরামহীনভাবে চলে আসছে ইটভাটাটি।

ইটভাটার পাশে কেবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়, আমাদী তকিম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অগ্রণী ও কৃষি ব্যাংকের শাখা কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় আছে। সেখানে আছে একটি বাজারও।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, ইটভাটা থেকে ইট পরিবহনের জন্য সকাল থেকে রাত অবধি ট্রলি চলাচল করায় বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে। বিদ্যালয়ে যাওয়া–আসার সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবকদের। তা ছাড়া ভাটায় নির্গত ধোঁয়া ও ধুলাবালুতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

ইটভাটার মালিক কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও আমাদি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমীর আলী। তাঁর নিজ বাড়ির সামনে ফসলি জমিতে চলছে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম। গ্রামবাসীর কোনো অভিযোগ তিনি আমলে নেন না। দুই মাস ধরে সেখানে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। বর্তমানে কাঠ পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে জায়গীরমহল গ্রামটি।

গ্রামবাসীর ভাষ্য, প্রায় তিন হাজার লোকের বসবাস ওই গ্রাম। শুরু থেকেই ভাটার সব কার্যক্রম বন্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন তাঁরা। এতে কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছেন তাঁরা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৯ অনুযায়ী, বিশেষ কোনো স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কিন্তু মেসার্স এ বি এম ব্রিকস এই আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে বছরের পর বছর।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ইটভাটার নির্গত ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে চোখ জ্বালাপোড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হয় স্থানীয় মানুষকে। তা ছাড়া হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা লোকজনকেও ভুগতে হয় নানা সমস্যায়। ইটভাটাটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া দরকার।

এ বি এম ব্রিকসের মালিক আমির আলী গাইন বলেন, ‘কয়রায় তেমন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। আমার ইটভাটার কারণে এলাকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আইন অনুযায়ী অনেক কিছুই তো করা যায় না। তবে সবকিছু ম্যানেজ করে চলতে হয়।’
খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ইকবাল হোসেন বলেন, কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটার কোনো বৈধতা নেই। খুব তাড়াতাড়ি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জনউদ্যোগ’-এর পক্ষ থেকে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা পরিবেশবিরোধী ইটভাটা বন্ধে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে। ওই স্মারকলিপিতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে স্থাপিত ইটভাটাটি বন্ধের বিষয়ে দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন বলেন, খুলনা জেলায় সব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে। এরই মধ্যে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।