সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ বাজারে এক পথসভায় রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। গতকাল শনিবার
সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ বাজারে এক পথসভায় রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। গতকাল শনিবার

আমার কোনো হাঁসের ডিম যেন চুরি না হয়, সেই খেয়াল রাখবেন: রুমিন ফারহানা

নির্বাচনের আগের দিন বিকেল থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত কেন্দ্রে নজর রাখার জন্য কর্মী-সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের একটি ছোট অনুরোধ করছি। ১১ তারিখ বিকেল থেকে ১২ তারিখ ভোট গণনা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র খেয়াল রাখবেন; যেন আমার একটিও হাঁস শিয়াল চুরি না করে, আমার কোনো হাঁসের ডিম চুরি না হয়, সেই খেয়াল রাখবেন।’

গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ বাজারে এক পথসভায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

দেশের নাগরিক হিসেবে সবাই সমান উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার এলাকায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ রয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই বাংলাদেশি। কারও অধিকার বেশি বা কম—এই ধারণায় আমি বিশ্বাসী নই। বাংলাদেশে “রাম”-এর যে অধিকার আছে, “রহিম”-এরও সেই অধিকার আছে। শিউলির যে অধিকার, সীতারও সেই অধিকার। সুতরাং আমি আমার এলাকায় কোনো বৈষম্য হতে দেব না। এখানে ওয়াজ যেমন হয়, কীর্তনও হবে। আমরা কারও মতামতে বাধা দেওয়াতে বিশ্বাসী নই।’

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের ঘরের সন্তান, আপনাদের মেয়ে। আপনারা যেহেতু আমাকে ভোট দিচ্ছেন, তাই এই নির্বাচন আপনাদের নির্বাচন। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইব না। আপনারা আমার জন্য হাঁস মার্কায় ভোট চাইবেন। বলবেন, আমাদের ঘরের মেয়েকে আপনারা হাঁস মার্কায় ভোট দিন। হাঁস মার্কা হলো সমৃদ্ধির প্রতীক, শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রতির প্রতীক। এটি উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের প্রতীক। হাঁস মার্কা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বলতে সহায়ক প্রতীক। এ প্রতীক ওই মানুষের জন্য, যারা ১৫ বছর ধরে সংসদে, মিডিয়াতে এবং ময়দানে জনগণের পক্ষে কথা বলে আসছেন।’

রুমিন ফারহানা জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা কি মামলা-বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজের পক্ষে?’ উত্তরে সবাই বলেন, ‘না।’ তিনি বলেন, ‘যদি না থাকেন, তাহলে আপনারা ন্যায়বিচার-সুশাসন, আইনের শাসন, মানুষের অধিকারের প্রতীক হাঁস মার্কাকে ভোট দেবেন।’ এলাকার যুবকদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, তাঁরা যেন নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, সেই জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আমাদের সার কারখানা, গ্যাস ও বড় বড় মিল-কারখানা রয়েছে। তাহলে কেন এলাকার উন্নয়ন হয় না? কারণ, আমরা যোগ্য প্রার্থী সংসদে পাঠাতে পারি না। এবারের নির্বাচন মার্কার না, প্রার্থীর এবং ব্যক্তির নির্বাচন। ব্যক্তি যদি সঠিক না হয়, রাজনীতি সঠিক হবে না। ব্যক্তিগত যদি চাঁদাবাজ, মামলাবাজ হয়, তাহলে এলাকায় শান্তি থাকবে না। ব্যক্তি যদি সৎ না হয়, উন্নয়ন হবে না। এই নির্বাচনে গণতন্ত্রের পক্ষে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছে, তাদের নির্বাচন। আমার কোনো দল নেই, কোনো হাইকমান্ড নেই। আমার এলাকার মানুষই আমার হাইকমান্ড। আপনারা যে উন্নয়ন চাইবেন, আমি আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে সেই কাজ করব ইনশা আল্লাহ।’