বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আইনজীবীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে
বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আইনজীবীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে

আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন

বরিশালে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আদালত বর্জন, বিক্ষোভ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুর করার প্রতিবাদে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এই কর্মসূচি শুরু হয়। তাঁরা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এদিকে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করায় দুর্ভোগে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা।

এই কর্মসূচিতে বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ (বাবলু) বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি জামিন অযোগ্য। তিনি আত্মসমর্পণ করলে বিচারক রহস্যজনক কারণে জামিন দেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা মহানগর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা বিচারক অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহকে অপসারণ এবং জামিন বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকাল মহানগরের সব আদালত বর্জন করেছেন।’

দ্রুত অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করে হাফিজ আহমেদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে অপসারণ করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের বর্জন কর্মসূচি চলবে।

এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পিপি মোস্তাফিজুর রহমান (বাবু), এপিপি সাইদ মোর্শেদ মামুন, অতিরিক্ত পিপি আবুল কালাম আজাদ (ইমন), অতিরিক্ত পিপি নুরুল হক (দুলাল) প্রমুখ।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস গতকাল সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পান। বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৫ মে বরিশাল নগরের অনামী লেনে একটি হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি কর্মী সরোয়ার হোসেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, মহানগর সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসসহ ২১০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় তালুকদার ইউনুস ৩ নম্বর আসামি। তিনি ২০০৮ সালে বরিশাল-১ এবং ২০১৪ সালে বরিশাল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি পান। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।