রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাঁরা আনন্দে আতশবাজি ফুটিয়েছেন। কেউ কেউ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোট গ্রহণ শেষে গণনার পর সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ও অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।
ফল ঘোষণার পর ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকার মানুষ উল্লাসে মেতে ওঠেন। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে উল্লাস করতে থাকেন। সে সময় তাঁরা ‘আমাদের স্যার রাষ্ট্রপতি’ হিপহিপ হুররে প্রেসিডেন্টসহ নানা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা আতশবাজি ফোটান। পরে তাঁরা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কে দলের নেতা-কর্মী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিস্টি বিতরণ করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, জেলা যুবদলের সভাপতি আবু হানিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কায়েস, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সুমন ইসলামসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সময় মো. কায়েস বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের অভিভাবক। রাজনীতিতে তাঁর ত্যাগের কথা সারা দেশের মানুষ জানেন। তিনি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত আসনে অসীন হবেন, এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল। আজ তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলেন। এই জয়ে শুধু আমরা নয়, গোটা জেলার মানুষ উচ্ছ্বসিত।’
বিএনপির জেলা কার্যালয় দেখভাল করেন আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তিনি দৌড়ে গিয়ে দুই কেজি মিষ্টি নিয়ে আসেন। এরপর কার্যালয়ের আশপাশের লোকজনের মুখে তা তুলে দেন। আনোয়ার বলেন, ‘স্যার প্রেসিডেন্ট, ভাবতেই ভালো লাগছে। এ খুশিতে মিষ্টি খাওয়ালাম।’
ছাত্রজীবন থেকেই মির্জা ফখরুলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পদাচরণ ছিল। ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যকর্মী রূপ কুমার গুহঠাকুরতা বলেন, ‘তিনি তো আমাদেরই লোক। তাঁর এটা প্রাপ্য ছিল।’
ঠাকুরগাঁও শহরের শিক্ষক রেহেনা বেগম বলেন, মির্জা ফখরুলের কাছে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার বড় জায়গা হলো—রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়ে মির্জা ফখরুল যেন দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন প্রত্যাশা পূরণে কাজ করেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এ বিষয়ে কথা হয় সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ঠাকুরগাঁও শাখার সভাপতি আবদুল লতিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁকে (মির্জা ফখরুল) এই এলাকার সবাই স্যার সম্বোধন করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় দলমত–নির্বিশেষে সবাই উচ্ছ্বসিত।