
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপির আনন্দমিছিলে দুই যুবকের কথা–কাটাকাটির ঘটনার জেরে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত প্রায় টানা চার ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার হাসপাতাল মোড় এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলার উচালিয়াপাড়া ও সৈয়দটুলা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পাঁচজনকে আটক করে যৌথ বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্করের নেতৃত্বে হাসপাতাল মোড় এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দমিছিল বের করা হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে সৈয়দটুলা গ্রামের মোশারফ হোসেনের (৩৫) সঙ্গে উচালিয়াপাড়া গ্রামের এক যুবকের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ সময় মোশারফের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন উচালিয়াপাড়ার গ্রামের এক যুবক।
এ ঘটনার পর সৈয়দটুলা গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে উচালিয়াপাড়া গ্রামের লোকজনকে ধাওয়া দেন। উভয় পক্ষের কয়েক শ লোক হাসপাতাল মোড় এলাকায় দা-বল্লম, ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হাজির হন। তাঁরা প্রথমে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর ও পরে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের ওপর সংঘর্ষে জড়ান। সরাইল থানা-পুলিশ রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা পৌনে নয়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় যৌথ বাহিনী পাঁচজনকে আটক করে।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যান চলা বন্ধ ছিল। অন্যদিকে সরাইল-অরুয়াইল সড়কে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া দুটি সড়কের উভয় পাশের শতাধিক দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। সংঘর্ষের প্রভাব পড়ে সরাইল উপজেলা সদরের বৈকাল বাজার ও প্রাতবাজার এলাকায়। সন্ধ্যার দিকে দুটি বাজারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষের বিষয়ে বিএনপির নেতা নুরুজ্জামান লস্কর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষ করেছি। কোনো দুষ্কৃতকারী লোক আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বিতর্কিত করার জন্য মোশারফ হোসেনের ওপর হামলা করেছে। এটি আওয়ামী দোসরদের কাজ। আমরা তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
বর্তমানে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি শান্ত বলে জানিয়েছেন সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।