মরদেহ
মরদেহ

ডেঙ্গু জ্বরে দেশে ছেলের মৃত্যু, একই দিনে সৌদি আরবে মারা গেলেন বাবা

ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু হয় সাত মাসের ছোট্ট শিশুর। এ খবর পেয়ে সৌদি আরবে প্রবাসী বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যান। শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একই দিনে আরেক স্বজনের মৃত্যু। এক দিনে তিনজনের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা।

শিশুটিকে তার নানার বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের আশা গ্রামের দাফন করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আরিয়ান খান (৩৫) ও মেহেন্দীগঞ্জের দক্ষিণ উলানিয়া গ্রামের সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয়। এই দম্পতির শাহাদাত সানি (১০) ও আদর (সাত মাস) নামের দুই ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। আরিয়ান সৌদি আরবে থাকতেন। দুই সন্তান নিয়ে সোনিয়া বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতেই থাকতেন।

এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় সাত মাসের শিশু আদর। গুরুতর অবস্থা হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার সকালে শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সৌদি আরবে আরিয়ান খান অসুস্থ হয়ে মারা যান।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যের কারণে বাড়িতে মারা যান সোনিয়া আক্তারের নানি (নাম জানা যায়নি)। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে গোটা পরিবার।

আমরা কী করে এই শোক বইব। নাতি ও জামাতা মারা গেল। একই দিনে বৃদ্ধা আমার শাশুড়িও পরপারে চলে গেলেন। এক দিনে পরিবারের তিনজনকে হারানোর শোক বিচলিত করে তুলেছে।
জসিম হাজারী, মৃত শিশুর নানা

মৃত আদরের নানা জসিম হাজারী আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কী করে এই শোক বইব। নাতি ও জামাতা মারা গেল। একই দিনে বৃদ্ধা আমার শাশুড়িও পরপারে চলে গেলেন। এক দিনে পরিবারের তিনজনকে হারানোর শোক বিচলিত করে তুলেছে।’

সোনিয়ার চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী মো. সেলিম জানান, শনিবার রাতে উলানিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে শিশু আদর ও সোনিয়ার নানিকে দাফন করা হয়েছে। আদরের বাবা আরিয়ানের লাশ সৌদি আরবে। আরিয়ানের মা–বাবা সৌদি আরবে বসবাস করেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।